ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প, তাতে কী আছে?
পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরান তার প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সেই প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি এইমাত্র ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিক্রিয়াটি পড়লাম। এটা আমার পছন্দ হয়নি – এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
এদিকে, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে ইরান বলেছে, ‘ইরানে কেউ ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য কোনো পরিকল্পনা করে না।’ সূত্রটি আরও বলেছে যে, ইরানের আলোচক দল শুধুমাত্র দেশের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ইরানের জবাবে কী আছে—
অবরোধ ও তেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি:
ইরানি গণমাধ্যমের মতে, ইরান নৌ অবরোধ এবং দেশের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তেহরান প্রস্তাবিত ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রস্তাবে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া এবং বিদেশে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি:
ইরানের জবাবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ আল-মায়াদিন টিভি জানিয়েছে যে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি আলোচনায় তেহরানের অন্যতম “রেড স্পট” বা “অনমনীয় অবস্থান”। ইরান বলেছে যে, লেবাননে উত্তেজনা কমাতে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সাথে, তারা জোর দিয়ে বলেছে যে কোনো চুক্তি ঘোষণার সাথে সাথেই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে কঠোর অবস্থান:
ইরান হরমুজ প্রণালীর উপর তার সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতিও দাবি করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে যে, তেহরান এমন যেকোনো কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে যা এই কৌশলগত জলপথের উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করে। আলোচনার প্রথম পর্বে যুদ্ধ শেষ করা এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর মনোযোগ দেওয়া হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি:
একজন ইরানি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, “আমাদের প্রতিক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো সমগ্র অঞ্চলে, বিশেষ করে লেবাননে, যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ওয়াশিংটনের সাথে মতপার্থক্য দূর করা।” তিনি বলেন, ইরানের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালী, তার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনার একটি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে, ইরানের প্রতিক্রিয়া তার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সংক্রান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ করেনি। জানা গেছে, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে লঘু করে তার কিছু অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো তৃতীয় দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে যে, আলোচনা ভেস্তে গেলে বা ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন চুক্তি থেকে সরে গেলে ইউরেনিয়াম ফেরত দিতে হবে।
ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করতে রাজি হয়েছে, তবে তা ২০ বছরের কম সময়ের জন্য। একই সাথে, দেশটি তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
৩০ দিনের আলোচনার প্রস্তা :
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতির পর একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করতে তেহরান ৩০ দিনের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই দলিলে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা যাচাইয়ের জন্য কিছু পারস্পরিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে, এই সময়কালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
ইরানের একজন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, “আমাদের প্রতিক্রিয়া বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক।” তিনি আরও বলেন, “ওয়াশিংটন যদি ইতিবাচক সাড়া দেয়, তাহলে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে যাবে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের।”
আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানের এই প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, আপাতত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা পাকিস্তানের মাধ্যমে লিখিত আকারে চলবে।
সূত্র: সামা টিভি

