দেশজুড়ে

রোগীর আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা চাওয়ায় নার্স বরখাস্ত

রোগীর আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এক নার্সকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৬ জুন) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। একই সাথে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বিশারবাড়ি এলাকার আবদুল্লাহ (৪) ও খাদিজা (৩) নামের দুই শিশু বিড়ালের কামড়ে আহত হলে তাদের চাচা সাব্বির তাদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অভিযোগ ওঠে, সেখানে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার সময় কর্তব্যরত নার্স মোরশেদা আক্তার ২০০ টাকা দাবি করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার কথা বলে রোগীর আত্মীয়রা টাকা দিতে অস্বীকার করলে নার্স তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তাদের একটি ঘরে আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নার্স মোরশেদা আক্তারকে রোগীর আত্মীয়দের বলতে শোনা যায়, “১০০ টাকা কি আপনাদের জন্য খুব বেশি হয়ে গেল? আপনারা দিন, আমি ভেবেছিলাম আপনারা টাকাটা দিয়ে দেবেন। কিন্তু টাকাটা দিচ্ছেন না কেন?”
ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, “এখানে ইনজেকশন দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তাহলে নিচ থেকে আনলেন না কেন? আমি যে দিয়েছি, তাতে কোনো মানবিকতা নেই। আপনারা টাকা দেবেন বলেই দেননি।” এক পর্যায়ে তিনি রোগীর আত্মীয়দের চলে যেতেও বলেন।
ভুক্তভোগীদের চাচা সাব্বির বলেন, “আমার ভাইপো-ভাইঝিকে বিড়াল কামড়ালে আমি রাতে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাই। প্রথমে নার্স টিকা দিতে একটু ইতস্তত করছিলেন। পরে অনুরোধ করলে টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু টিকা দেওয়ার পরপরই তিনি ২০০ টাকা দাবি করেন। আমরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি নানা কথা বলতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে আমাদের আটকে রাখেন। তার ভাই এসে টাকা দিয়ে যাবেন বললেও তিনি রাজি হননি।”
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট নার্সকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া বলেন, অভিযুক্ত নার্সকে দায়িত্ব থেকে সরানোর পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের কাছ থেকে টাকা দাবি এবং অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।