হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের প্রতি জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে জার্মানির অবস্থানও একই—ইরানকে অবশ্যই তার ‘পারমাণবিক’ অস্ত্র সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করতে হবে এবং এর সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। একই সাথে, তিনি হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
ওয়াডেফুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে জানান যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো তাদেরও একই দাবি—ইরানকে অবশ্যই তার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। এদিকে, ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতার সমালোচনা করেছেন। এর আগে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন যে, ওয়াশিংটনের কৌশলগত দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর বলেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তিনি কোনো সুস্পষ্ট ‘প্রস্থান কৌশল’ দেখতে পাচ্ছেন না। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। কাতার-ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘ইরানি নেতৃত্বের দ্বারা সমগ্র আমেরিকান জাতি অপমানিত হচ্ছে।’ রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসবে, তা স্পষ্ট নয়। জার্মান চ্যান্সেলর মন্তব্য করেন যে, ইরান আলোচনায় একটি অত্যন্ত কৌশলগত ভূমিকা পালন করছে এবং তারা যা ভাবছে তার চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভেডেফুল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ওয়াদেফুল বলেন, “আমরা জানি যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসলামাবাদে যেতে প্রস্তুত। এখন ইরানের উচিত তার জনগণের স্বার্থে মার্কিন প্রস্তাবটি গ্রহণ করা।”
তিনি আরও বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বিরুদ্ধে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়োহান ওয়াদেফুল বলেন যে, জার্মানি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না এবং দেশটিতে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করবে না।
বিবৃতিতে তিনি জার্মানির অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন যে, আমরা যদি ইরানে একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ দেখতেও চাই, সেই পরিবর্তন অবশ্যই ইরানি জনগণের মাধ্যমেই আসতে হবে। তিনি বলেন যে, জার্মানি এই যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। একইভাবে, আমরা ইরানসহ কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপেও অংশ নিচ্ছি না।
তিনি বিশ্বাস করেন যে, জার্মানি ইরানি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং দেশের জনগণের ওপর সরকারের দমনপীড়নের বিরোধিতায় তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে জার্মানি ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। এর আগে, ১০ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক মন্তব্যের জবাবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল বলেন যে, হরমুজ প্রণালী রক্ষায় ন্যাটোর কোনো ভূমিকা জার্মানি দেখে না।

