ধনবাড়ীতে চালকলে আগুন, পুকুরের মাছ মরা, পরিবারে আতঙ্ক
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে একই মালিকের একটি চালকলে রহস্যজনক আগুন এবং একই রাতে দুই বিঘা পুকুরের মাছ বিষ প্রয়োগের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার (৬ জুন) রাতে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর ভাটকুড়া গ্রামে আবু বকর সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তির চালকল ও পুকুরে দুষ্কৃতকারীরা আগুন লাগিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিকী জানান, শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ তার চালকলে আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে ধনবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই রাতে দুষ্কৃতকারীরা তার দুই বিঘা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলে। রবিবার সকাল থেকে পুকুরে মরা মাছ ভাসতে দেখার জন্য স্থানীয়রা ভিড় করছেন।
আবু বকর সিদ্দিকী দাবি করেছেন যে, তিনি এর আগেও বেশ কয়েকবার হামলায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একটি অটোরিকশা চুরির ঘটনায় থানায় একটি মামলা ও অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের জন্য তদবির করায় তাকে বিরোধীদের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছিল। এছাড়াও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের কয়েক মাস পর দুষ্কৃতকারীরা তার বাড়ির সামনে রাখা প্রায় ২২ লাখ টাকা মূল্যের একটি সোনালীকা পাওয়ার টিলারে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি জানান, পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পাওয়ার টিলারটি মাত্র ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন।
আবু বকর সিদ্দিকী মনে করেন, ধান মাড়াই কলে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড এবং পুকুরে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও একই উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তিনি চর ভাটকুড়া গ্রামের নিহত আহমেদ আলীর ছেলে। স্থানীয়দের একাংশ মনে করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে পরিবারটি জড়িত থাকায় এই ঘটনাগুলো তাদের লক্ষ্য করে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আবু বকর সিদ্দিকীর ছেলে আব্দুল মান্নান মণ্ডল এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। ঘটনার পর রবিবার সকাল ১০টার দিকে ধনবাড়ী থানার এসআই আরিফের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা পুকুরে মরা মাছ ও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দেখতে পান।
উপজেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান এবং পৌর বিএনপি সভাপতি এস এম এ শোভনও পরিদর্শনে যান। ওসি নুরুস সালাম সিদ্দিকী জানান, এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

