চর ফ্যাশনে বিধবাকে পিটিয়ে হত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
সম্পত্তি দখলের জেরে ভোলার চর ফ্যাশনে এক বিধবাকে পিটিয়ে হাত ও বুকের হাড় ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ওই নারীর বাম হাত ও বুকের একটি হাড় ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ। আহত অবস্থায় তাকে চর ফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার তিন দিন পর গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে নির্যাতিতা রহিমা বেগমের ছেলে আল আমিন চর ফ্যাশন থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার জের ধরে পুলিশ মূল অভিযুক্ত কালাম মাঝিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত কালাম মাঝি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে রহিমা বেগম তার সন্তানদের নিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতেই বসবাস করে আসছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সম্পত্তি দখলের জন্য কালাম মাঝি দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, গত বুধবার সকালে কালাম মাঝি তার ছেলে জাকির ও জিহাদকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকজন সহযোগীসহ রহিমা বেগমকে ডাব বিক্রি করতে যাওয়ার পথে আক্রমণ করেন। এ সময় তাকে গুরুতর মারধর করা হয়, এতে তার বাম হাত ও বুকের একটি হাড় ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চর ফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রহিমা বেগমের ছেলে আল আমিন আজ রবিবার (১৯ জুলাই) আমাদেরকে বলেন, “আমার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের জন্য কালাম মাঝি দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে আমাদের হয়রানি করে আসছে। গত বুধবার ডাব বিক্রি করার সময় তারা আমার মাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। আমার মা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ব্যস্ত থাকায় থানায় মামলা করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আমি এই ঘটনায় একটি সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়। পরে তদন্ত করে আমরা জানতে পারি যে রহিমা বেগমকে মারধরের ঘটনাটি সত্য। চর ফ্যাশন থানার ওসি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত। ভুক্তভোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মামলা দায়েরের পর মূল অভিযুক্ত কালাম মাঝিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

