আমাদের চট্টগ্রাম

অনলাইনে সাড়া ফেলেছে ‘গো ফিট’

‘শরীরচর্চার সঙ্গে সঠিক খাদাভাস্যের পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম’

শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রত্যকেরেই ব্যায়াম করা উচতি। কিন্তু জিমে গিয়ে ব্যায়াম করা সবসময় হয়ে ওঠেনা, কিন্তু নিজেকে ফিট রাখতে হলে ব্যায়াম করতেই হবে। তাই যারা জিমে যেতে পারেন না তারা চাইলইে ঘরে বসইে করতে পারেন।

চট্টগ্রাম নগরীতে তেমন সুবিধা নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে গো ফিট। যারা অনলাইনে দেশের পাশাপাশি বিদেশি শরীরর্চচার ট্রেনিং দিচ্ছেন। এছাড়া তাদের রয়েছে লোকশেন ট্রেনিংও।

গো ফিটের প্রতিষ্ঠাতা কে?

গো ফিটের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান ফিটনেস কোচ মোহাম্মদ আসাদ। যিনি ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব স্পোর্টস মেডিসিন (ঘঅঝগ) সার্টিফায়েড পার্সোনাল ট্রেনার (ঈচঞ)। তার তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হয় গো ফিট।

কবে যাত্রা শুরু:

২০২৩ সালের শুরুর দিকে। তবে এর আগে থেকে। এখন হাটি হাটি পা পা করে ৩ বছর অতিক্রম করেছে। তবে গো ফিটের যাত্রা বয়স কম হলেও প্রতিষ্ঠাতা মো. আসাদের ফিটনেসের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৪ সাল থেকে। যার অভিজ্ঞতার ঝুঁলি দীর্ঘ ২২ বছরের। বর্তমানে আসাদ কাজ করছেন একটি পাঁচতারকা হোটেলের জিমের ট্রেইনার ও প্রধান ফিটনেস কোচ হিসেবে। পাশাপাশি তিনি অনলাইনে গো ফিটের কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

গো ফিটের কাজ কী:

গো ফিটের কাজ অনলাইনভিত্তিক। ওভারঅল হেলথ নিয়ে কাজ করা যাদের কাজ। মানুষকে মোটিভেড ও কাউন্সিলিং করে অভ্যাস তৈরির পাশাপাশি লাইফস্টাইলে পরিবর্তন তৈরিতে সহায়তা করে গো ফিট। এ প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ গ্রাহকই চাকরিজীবি। যাদের বয়স ৩৫ এর ওপরে এবং ওজন বেশি। এসব গ্রাহকদের সাথে থেকে তাদের সমস্যার সমাধান করে গো ফিট। এছাড়াও যারা জিমে যেতে পারে না তাদের অ্যাপের মাধ্যমে শরীরচর্চার বিভিন্ন নিয়ম শিখিয়ে দেয়া হয় এবং অনলাইনে ট্রেনিংয়ে থাকাদের কাছ থেকে প্রতিদিনের খাবার তালিকার পাশাপাশি দেয়া হয় মূল্যবান পরামর্শ।

নতুন সংযোজন গো ফিট মিল:

ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গো ফিটের নতুন সংযোজন স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি। ক্লাউড কিচেনের মাধ্যমে ১০-১২ টি রেসিপি রয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা সাশ্রয়ী দামে ভালো ক্যালরি খাবার এখান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে কিনতে পারবেন।

 

লোকেশন ট্রেনিং:

গো ফিটের লোকেশন কিছু ট্রেনিং আছে। যারা জিমে আসতে পারে না তাদের লোকশনে পাঠানো হয় গো ফিটের ট্রেইনার। বর্তমানে ৭-৮ জন ট্রেইনার রয়েছে। তারা বিভিন্ন লোকশনে গিয়ে ট্রেনিং করাচ্ছে জিমে সরাসরি আসতে না পারাদের।

 

যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম:

ফেসবুকে গো ফিট আসাদ নামে পেইজ রয়েছে। ওয়েবসাইটের নাম গো ফিট ডট কোচ। এছাড়া ইন্সট্রাগামে গো ফিট ডট কোচ নামেও অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে ঢুকলে পাওয়া যাবে প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত সবকিছু। মেসেজ পাঠালে টিমের সদস্যরাও যোগাযোগ করবে।

 

অনলাইনে কাজ কী?

প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে হোয়াটঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রতি সপ্তাহে সভা। স্ক্রিণ শেয়ার করে দেখানো হয় প্রগ্রেজ। এছাড়া শরীর চর্চার যেসব ভিডিও করে পাঠানো হয় সেগুলো রিভিউয়ের মাধ্যমে ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া হয়। প্রতিটি ব্যায়ামের আগে বিস্তারিত বুঝানো হয়।

 

মোহাম্মদ আসাদ যা বললেন:

গো ফিট হচ্ছে অনলাইন কোচিং প্ল্যাটফরম। এ প্রতিষ্ঠানের আমি সার্টিফাইড ফিটনেস কোচ। তবে আমি বডি বিল্ডার না। অনেক এ নিয়ে ভুল বুঝে আমাকে। শুরুতে ২০০৯ সালে ফিটনেস সার্টিফিকেশন করেছি লন্ডন থেকে। দ্বিতীয় সার্টিফিকেশন ২০২২ ইউএস অনলাইনে ব্যাচে। আমার ফিটনেস ক্যারিয়ার ৩-৪ বছরের। এর আগে আমি ফিটনেস ক্যারিয়ারে পার্টটাইম ছিলাম। তখন নিয়মিত চাকরি করেছি। ১০-১২ বছর মার্চেন্টডাইজার হিসেবে একটি কোম্পানিতে কাজ করেছি। তখন চাকরির পাশাপাশি শখের বসে মানুষকে ফিটনেসে সাহায্য করতাম। যখন করোনা ভাইরাস আসল তখন অনলাইনে ফিটনেসের চাহিদা বাড়ল। অনলাইনে দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকে মানুষ ট্রেনিং করা শুরু করি। আগে থেকে যোগাযোগ থাকায় তখন বিভিন্ন রেফারেন্সে অনলাইনের মাধ্যমে মানুষ আমার কাছ থেকে ট্রেনিং নেয়া শুরু করে। আর এটার মাধ্যমে আমি গো ফিট প্রতিষ্ঠা করি।

তিনি বলেন, আমি যখন জিম শুরু করি তখন আমার বয়স ১৫ বছর। তাই ১৫ বছর থেকে জিম শুরু করলে কোনো সমস্যা নেই। তবে এখানে একটা ভুল ধারণা রয়েছে। আমার অভিভাবকদেরও একই ভুল ধারণা ছিল। যে জিম শুরু করলে উচ্চতা বাড়বে না। এটা হচ্ছে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমিই তার প্রমাণ। উচ্চতার সাথে জিমের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এখনকার বাচ্চাদের জিমের সাথে পরিচয় করানো উচিত। যাতে খেলাধুলার পাশপাশি শরীরচর্চাও যেন করে। কারণ হঠাৎ ৩০ বছর বয়সে যখন এসে শুরু করতে চায়। তখন অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগে থেকে যদি অভ্যাস করা যায় তাহলে সে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে পারবে। শরীরচর্চায় বয়স কোনো বিষয় না।

 

ওজন কমানো, স্লিম দেখানো সুস্থতা নয়:

এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আসাদ বলেন, ওজন কমানো এবং স্লিম দেখানো কখনও সুস্থতা হতে পারে না। ওজন কমাতে গিয়ে শক্তি হারিয়ে যেতে পারে। মানুষের ধারণা ওজন কমানো মানে চর্বি কমানো। কিন্তু না, অনেক ভুল করে চর্বির সঙ্গে মাংসপেশি কমিয়ে ফেলে। মাংসপেশি কমানোর ফলে কমে যেতে পারে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা। তখন ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। তাই বুঝতে হবে ওজন কমাতে হবে ধীরে ধীরে নিয়ম মেনে। শর্টকাটে গেলে বাড়বে বিপদ। এছাড়া অল্প জেনে নিজে নিজে করাটাও বিপদজনক হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ভালো ট্রেইনারের পরামর্শ খুবই জরুরি।

মোহাম্মদ আসাদ আরও বলেন, সুস্থ ও ফিট থাকতে খাওয়া মানুষকে সাহায্য করে ৬০ শতাংশ, ২০-২৫% শরীরচর্চায় ও বাকি ২০ শতাংশ সাহায্য করে পর্যাপ্ত ঘুমে। আজকাল অনেক মানুষ সকালে ঘুমায়। বেশিরভাগ তরুণরা ঘুমায় ভোরে। ঘুমের কারণে হরমোনের সমস্যা হয়। হরমোন হচ্ছে ওজন কমানো ও বাড়ানোর মূল কারিগর। তাই নিয়ম মেনে শরীরচর্চার সঙ্গে সঠিক খাদাভাস্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমও প্রয়োজন।

তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা:

গো ফিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো তরুণ ও মধ্যবয়সী মানুষের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ফিটনেস কোচ মোহাম্মদ আসাদ নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য, শরীরচর্চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এই কার্যক্রম তরুণদের জন্যও একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। আগ্রহী তরুণরা গো ফিটের কাছ থেকে যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে তারা প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। পরবর্তীতে তারাই অন্যদের শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুস্থ থাকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। এর ফলে একদিকে যেমন তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে প্রশিক্ষিত নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত হবে।