আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের হামলা বিলম্বিত করতে ‘সম্মত’ হলেন নেতানিয়াহু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছেন। এর ফলে তেহরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন আরও কয়েকদিন সময় পেল।
এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইরান গতকাল রবিবার (৭ জুন) ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আপাতত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পের ডাকে সম্মত হন। ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটনকে আরও কয়েকদিন সময় দিতে বলেছেন। টাইমস অফ ইসরায়েল একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা এবং একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, ওই ফোন আলাপের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে এই হামলার জবাবে প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা ভালো কিছু অর্জনের খুব কাছাকাছি আছি।”
মার্কিন কর্মকর্তার মতে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে এবং ইসরায়েলকে ইরানে হামলা চালানোর অনুমতি দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে, শেষ পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্টের অনুরোধে “এক প্রকার রাজি” হন।
মার্কিন কর্মকর্তা সাম্প্রতিক এই ফোনকলটিকে গত সপ্তাহে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে হওয়া উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত বা সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। আগের ফোনকলে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে তিরস্কার করার এবং উচ্চস্বরে কথা বলার কথা স্বীকার করেছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে প্রেসিডেন্ট আজকের ফোনকলে উচ্চস্বরে কথা বলেননি।
ফোনকলের পর মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমরা মনে করি প্রেসিডেন্টের হাতে কিছুটা সময় আছে। তিনি খুব দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে আমরা ইরানের সাথে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি। আমি মনে করি না ইসরায়েল শিগগিরই হামলা চালাবে।”
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজ জানিয়েছে যে ইসরায়েলে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং আধা ঘণ্টা আগেও নেতানিয়াহু এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করছিলেন। একটি পৃথক প্রতিবেদনে, দুজন মার্কিন কর্মকর্তা চ্যানেল ১২ নিউজকে জানিয়েছেন যে, রবিবার সকালে বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি হামলার অনুমোদন হোয়াইট হাউস দেয়নি। মূলত ওই হামলাটিই ইরানকে আক্রমণ চালাতে উস্কানি দিয়েছিল। কর্মকর্তাদের একজন বলেন, “এতে (বৈরুত হামলায়) আমাদের কোনো ভূমিকা ছিল না।”