দেশজুড়ে

মাদারীপুরে কোরবানির পশু নিয়ে লাভের প্রত্যাশা খামারিদের

কোরবানি সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। মাদারীপুর জেলাজুড়ে গড়ে ওঠা ছোট-বড় চার হাজার খামার থেকে প্রতি বছর মিটছে কোরবানির পশুর চাহিদা। এসব খামারে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারিরা। জেলার চাহিদা পূরণ করে বিভিন্ন জেলায়ও বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন প্রান্তিক খামারিরা। জানা গেছে, মাদারীপুর জেলায় খামার ছাড়াও প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকেরা প্রতিবছর কোরবানি উপলক্ষে গরু লালন-পালন করে থাকেন। দেশের বাজারে এসব গরুর বেশ চাহিদাও রয়েছে।
স্থানীয় ভাষায় এসব গরু ‘গেরস্থর গরু’ বলে পরিচিত। এছাড়াও ছোট-বড় অসংখ্য খামার গড়ে উঠেছে জেলাজুড়ে। সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের বড়কান্দি এলাকার সীমা বেগম ও মোক্তার চোকদার দম্পতি তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন একটি গরুর খামার। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে দেখাশোনা করেন পুরো খামারটি। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির উপযুক্ত করে তুলেছেন দেশি-বিদেশি ৩৫টি পশু। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করছেন। এবার ঈদে সবগুলো গরু বিক্রির আশা তাদের।
এদিকে জেলার শিবচর উপজেলার মুন্সী কাদিরপুর এলাকায় উপজেলার বৃহত্তম গরুর খামার ‘নাঈম এগ্রো ফার্ম’। এখানে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে কমপক্ষে ১৫০ গরু। এছাড়া মহিষও রয়েছে কিছু।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে- জেলায় ৬৬ হাজার ৮৮০ পশুর চাহিদার বিপরীতে ৭২ হাজার ৪৯৫টি পশু রয়েছে। পশু বিক্রির স্থায়ী ও অস্থায়ী অর্ধশত হাটকে ঘিরে ১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলার চাহিদা পূরণে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততা বেড়েছে খামারগুলোতে। খামারিদের প্রত্যাশা অবৈধভাবে ভারত থেকে গরু আমদানি করা না হলে চড়া দামে বিক্রি হবে গবাদিপশু। এতে গতবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন তারা।
খামারি মোক্তার চোকদার বলেন, সারাবছর কোরবানির ঈদের অপেক্ষাই থাকি। সেজন্য খামারে পশুকে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করছি। ভারত থেকে গরু আমদানি না করা হলে এবার ভালো লাভের প্রত্যাশা করছি। তাহলে আগামীতে আরও বেশি গরু লালন পালন করতে পারবো।
আরেক খামারি সোহাগ খান বলেন, খড়, ভুসি ও ঘাস খাইয়ে গরুকে মোটাতাজা করছি। অনেক স্বপ্ন এবার খামারের সবগুলো গরু ভালো দামে বিক্রি করার। গরুগুলোকে হাটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
নাঈম এগ্রো ফার্মের মালিক মজিবুর রহমান খান বলেন, শিবচরের হাটগুলোতে আমাদের গরু বিক্রির পাশাপাশি অনেকেই সরাসরি এসে খামারের গরু কিনে নিয়ে যায়। আবার কখনো কখনো কোরবানির আগে আমরা ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছেও দিয়ে থাকি।
মাদারীপুর জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, পশুর রোগ-বালাই রোধে খামারিদের মাঠপর্যায়ে দিক- নির্দেশনার পাশাপাশি পরামর্শ দিচ্ছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। এছাড়াও কোনো খামারি যাতে দেশীয় পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করতে না পারে সে ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর রাখছে অফিসের সংশ্লিষ্টরা।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কোরবানির ঈদে পশু কেনাবেচাকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। এরই মধ্যে হাটগুলোর আশপাশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাদা পোশাকেও পুলিশ কাজ করছে।