জাতীয়

বগুড়ায় আলুর ঘাঁটি ও দই খেলেন প্রধানমন্ত্রী

পৈতৃক জেলা বগুড়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনটি একদিকে ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং অন্যদিকে প্রাণবন্ত জনসমাগমে পরিপূর্ণ ছিল। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে এসে বগুড়া সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
স্থানীয় ঐতিহ্য ও স্বাদের সমন্বয়ে আয়োজিত এই ভোজসভায় বগুড়ার কিছু বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলা প্রশাসন এনডিসি রাশিদুল ইসলাম জানান, ঢাকা ট্যুরিজম মোটেলের শেফ লিয়াকত আলীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত মেন্যুতে ছিল নাজিরশাল রাইস, পাবদা ও হর্ন ফিশ দো-পেঁয়াজা, পটাসি ফিশ চাচ্চি এবং দেশি চিকেন প্যাড। খাবারের শেষ অংশে ঐতিহ্যবাহী আলুর ঘাঁটি এবং সাদা ও মিষ্টি দই পরিবেশন করা হয়, যা অতিথিদেরও আকৃষ্ট করে। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী এই স্থানীয় খাবারগুলো টেস্ট করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং তৃপ্তির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ শেষ করেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তাঁর সহজ-সরল ও সাবলীল ভঙ্গিতে দেওয়া ভাষণে ছিল রসবোধ, যা সঙ্গে সঙ্গে জনসভাটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
ভাষণের এক পর্যায়ে শ্রোতাদের মধ্যে সামান্য শোরগোল শুরু হলে তিনি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলেন, “আরে ভাই, আপনাকে চুপ করতে হবে। নইলে আপনি কথা বললে আমি চলে যাব।” তাঁর এই মন্তব্যে সভাস্থলে হাসির রোল ওঠে। পরে তিনি ঘরোয়া সুরে বলেন, “আমার খিদে পেয়েছে। বাবার বাড়িতে এসেছি, আপনারা কি আমাকে খেতে দেবেন না? আমি এখনও খাইনি, নামাজও পড়িনি। সামনে আরও জনসভা আছে, আরও কর্মসূচি আছে। তারপর আমাকে আবার ঢাকায় ফিরতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্যে জনতা করতালির মাধ্যমে সাড়া দেয়। অনেকেই তাঁর সহজ-সরল আচরণকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। ভাষণে স্বামীর রসবোধ উপভোগ করতে দেখা যায় তাঁকে। মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিদের মধ্যেও একটি আনন্দঘন পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
ভাষণ চলাকালে, দর্শকাসন থেকে একজন প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘক্ষণ ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ করলে, তিনি হেসে উত্তর দেন, “সেটা সম্ভব নয়। আমি আবার আসব।” অনুষ্ঠানের শেষে, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে স্থানীয় অভাবী ও অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। পরে, প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী কর্মসূচির জন্য বগুড়া ত্যাগ করেন।