আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের পর চীন সফরে পুতিন, আলোচিত হবে বিভিন্ন বিষয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর চীন সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এটি হবে চীনে তাঁর ২৫তম সফর। এই দুই দিনের সফরে পুতিন তাঁর ‘পুরনো বন্ধু’ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই সময়ে তাঁরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সকল ক্ষেত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
পুতিনের এই সফরের ঘোষণা এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সপ্তাহখানেক আগেই তাঁর চীন সফর শেষ করেছেন। চীন ও রাশিয়া বলছে, পুতিনের দুই দিনের এই সফর দুই দেশের মধ্যে ‘সর্বকালীন অংশীদারিত্বের’ প্রমাণ। পশ্চিমা দেশগুলো চীনকে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বললেও, তারা দাবি করছে যে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
যদিও চীন ইউক্রেন যুদ্ধে নিজেকে শান্তি মধ্যস্থতাকারী এবং নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করে, পুতিন দাবি করেছেন যে চীন ও রাশিয়া একে অপরের ‘মূল স্বার্থ’ সমর্থন করে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুই দেশ জ্বালানি চুক্তি সম্প্রসারণের জন্য কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শীর্ষ সম্মেলন বিশ্বকে এই বার্তা দেবে যে চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রচেষ্টাই তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন বিশ্বে নিজেকে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে এবং ইরান সংঘাতের মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। চীন সফরের পর মার্কিন পক্ষ বলেছে যে, দুই দেশ কিছু চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা বিশ্বব্যাপী ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করেন যে চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পশ্চিমা চাপ সত্ত্বেও স্থিতিশীল কূটনীতি বজায় রাখার বার্তাও দেয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন যে, এই সফরকালে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সকল ক্ষেত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।