কিম জং উন ১০,০০০-টন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন
সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি বৃহত্তর যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং তার নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি আজ বুধবার (২৪ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কিম গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) উত্তর কোরিয়ার বন্দর নগরী নাম্পোতে ৫,০০০-টন শ্রেণীর বহুমুখী ডেস্ট্রয়ার ‘চো হিয়ন’-এর আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি বা কমিশনিং অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় এই ঘোষণা দেন। চো হিয়ন হলো গত বছর উত্তর কোরিয়ার নির্মিত দুটি ৫,০০০-টন শ্রেণীর যুদ্ধজাহাজের মধ্যে একটি। এই যুদ্ধজাহাজটি অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্রে সজ্জিত। গত এপ্রিলে কিম নিজে এই জাহাজ থেকে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তদারকি করেছিলেন।
কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন বলেন যে, নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কর্মসূচি তাদের পূর্ব-পরিকল্পিত পথ অনুযায়ী নিখুঁতভাবে এগিয়ে চলেছে। দেশের পারমাণবিক শক্তিকে সর্বদা বহুমুখী ও কার্যকর অভিযানের জন্য প্রস্তুত রাখতে এই পদক্ষেপটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র ইংরেজি প্রতিবেদন অনুসারে, কিম জং উন ঘোষণা করেছেন যে ‘কাং কন’ নামের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ শীঘ্রই অভিযানের জন্য প্রস্তুত হবে। পিয়ংইয়ং একের পর এক ১০,০০০-টন কৌশলগত যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রে ভাসানোর পরিকল্পনা করছে। কিম আরও বলেছেন যে এখন থেকে উত্তর কোরিয়া প্রতি বছর ‘চো হিয়ন’-এর চেয়ে বড় দুটি সারফেস শিপ বা যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে, যার মধ্যে একটি হবে ১০,০০০-টন ক্রুজার।
সাধারণত, একটি ১০,০০০-টন শ্রেণীর যুদ্ধজাহাজ—যেমন মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আর্লি বার্ক’ বা দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সেজং দ্য গ্রেট’—প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ মিটার (প্রায় ৪৯২-৫৫৭ ফুট) লম্বা হয়, যা প্রায় দেড়টি ফুটবল মাঠের সমান এবং এর ওজন হাজার হাজার গাড়ির সমান। দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীতে বর্তমানে ৫,০০০ টনের চেয়ে বড় ১০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যেখানে উত্তর কোরিয়ার আছে মাত্র দুটি।
সাংজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামরিক অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক চোই গি-ইল মনে করেন যে, ১০,০০০ টনের এই মাইলফলকটি উত্তর কোরিয়ার জন্য একটি বড় প্রতীকী ঘটনা। এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং কোনোভাবেই সিউলের সামুদ্রিক শক্তির চেয়ে পিছিয়ে না থাকার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করছে।
অন্যদিকে, কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ লিম ইয়ুল-চুল বলেছেন যে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান নিরাপত্তা মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বার্তা পাঠানো। যদি উত্তর কোরিয়া কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড সজ্জিত ক্রুজ মিসাইল ক্যারিয়ার মোতায়েন করে, তবে এটি দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে।
পিয়ংইয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কার্যকলাপের জবাবে তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি অপরিহার্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে দাবি করে আসছে। ২০১৯ সালে হ্যানয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের শীর্ষ সম্মেলন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থ হওয়ায় উত্তর কোরিয়া নিজেকে একটি “অপরিবর্তনীয়” পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এই দুই প্রতিবেশী দেশ এখনও কার্যত যুদ্ধরত, কারণ ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পরিবর্তে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। এবং সিউলকে রক্ষা করার জন্য বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮,৫০০ মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
সূত্র: জিও টিভি।

