আন্তর্জাতিক

ঝড় ও বজ্রপাতে বিধ্বস্ত পশ্চিমবঙ্গ, ১৩ জনের মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তীব্র বজ্রপাত ও মুষলধারে বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও অনেকে আহত হয়েছেন। একই সময়ে, কলকাতা শহর এক প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছ উপড়ে গেছে, যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
গত সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই কলকাতা ও তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে অসহনীয় গরম অনুভূত হচ্ছিল। দুপুর গড়াতেই আকাশ হঠাৎ কালো হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। ঘন ঘন বজ্রপাতও হচ্ছিল। কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী এই দুর্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালদা, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, পুরুলিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। মাঠে কাজ করার সময়, গবাদি পশু আনার সময় বা খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় অনেকেই বজ্রপাতের শিকার হন।
কোচবিহারে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও অনেকে আহত হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্ষাকালে মাঠে কাজ করার সময় তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরুলিয়ায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জেলার বিভিন্ন গ্রামে একই সময়ে একাধিক বজ্রপাত হয়েছে।
মুর্শিদাবাদে নদীতে চলাচলকারী একটি নৌকা দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের সময় নদীতে চলাচল না করার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন বন্ধু একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এমন সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে একজন গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, ঝড়ের কারণে কলকাতার অনেক এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। ধর্মতলা, মৌলালি, ডাফরিন রোড এবং হাইকোর্ট চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। হাইকোর্ট এলাকার পার্কিং লটে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি গাছ পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিয়ালদহ রেলস্টেশন চত্বরেও ঝড়ের প্রভাব দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটও ঘটে। কলকাতা পৌর কর্তৃপক্ষ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে যে কলকাতায় ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইছিল। বিভিন্ন জেলায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বেশ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী ও উপকূলীয় এলাকার জেলেদেরও সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রঝড় অব্যাহত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণকে খোলা মাঠ, জলাশয় ও গাছের নিচে অবস্থান না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।