রাঙ্গামাটিতে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর নারীর মরদেহ উদ্ধার
রাঙ্গামাটিতে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মুক্তা বড়ুয়া (২৮) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা। আজ রবিবার (২১ জুন) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে শহরের সংরক্ষিত এলাকা শহীদ মিনার ঘাটের কাপ্তাই হ্রদ থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয়রা জানান, মুক্তা বড়ুয়া মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
জানা গেছে, মুক্তা বড়ুয়া তার স্বামী অভিজিৎ বড়ুয়ার সঙ্গে রাঙ্গামাটির তবলছড়ির বিজিবি রোড এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তিনি গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজার পর গতকাল শনিবার পরিবার কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে। আজ সকালে মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মুক্তা বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন। স্থানীয় বাসিন্দা অপু চৌধুরী জানান, সকালে এলাকার এক শিশু তাকে পুকুরে ভাসতে দেখে কিছু একটা জানায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, পাহাড়ি ঝর্ণায় ভেসে আসা কাঠ বা বাঁশ কেউ সংগ্রহ করছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।
রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নেতা মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন জানান, এর আগে তার স্বামী মুক্তা বড়ুয়ার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে পরিবার জানিয়েছিল যে মুক্তা বড়ুয়া মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

