খেলা

ভিসা জটিলতার মধ্যেই মেক্সিকোতে পৌঁছাল ইরানের বিশ্বকাপ দল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বকাপের ফুটবল মাঠেও ছড়িয়ে পড়ছে। এ বছরের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
এই পারস্পরিক উত্তেজনার কারণে এ বছরের বিশ্বকাপে ইরানের যাত্রা শুরুতে বেশ অনিশ্চিত ছিল। তবে, ভিসা জটিলতা থেকে শুরু করে বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন পর্যন্ত নানা বাধা পেরিয়ে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে মেক্সিকোর টিহুয়ানায় পৌঁছেছে। দলটি গত শনিবার ভোরে তুরস্ক থেকে উড়ে এসে সীমান্তবর্তী এই মেক্সিকান শহরে অবতরণ করে।
এর আগে, ইরানের দলটি গত তিন সপ্তাহ ধরে তুরস্কের আনাতোলিয়ায় একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ছিল। তারা মূলত তিনটি আয়োজক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার—ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সেখানে অবস্থান করছিল। তবে, এত কিছুর পরেও ওয়াশিংটন ইরানের দলের কিছু সদস্যকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে একটি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও দলটির বেস ক্যাম্প প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, ভিসার অনিশ্চয়তার কারণে শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তন করে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরান ফুটবল ফেডারেশন দাবি করেছে যে খেলোয়াড়দের ভিসা অবশেষে অনুমোদন পেলেও, দলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি।
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে এই সিদ্ধান্তে ইরান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তুরস্কে অবস্থিত দেশটির দূতাবাস জানিয়েছে যে ১৫ জন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে দূতাবাসটি ইরান জাতীয় দলের প্রতি ইচ্ছাকৃত ও বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে বিষয়টি তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন এই সিদ্ধান্তকে “ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে জঘন্য উদাহরণ” হিসেবে বর্ণনা করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজও ভিসা না পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইরান দলের অবস্থান নিয়ে একটি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ সাংবাদিকদের জানান যে, দলটিকে জানানো হয়েছে যে ভিসার শর্ত অনুযায়ী ম্যাচের দিনই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে।
তবে, জাতীয় দলের মুখপাত্র আমির মাহদি আলাভি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন যে, দলটিকে একাধিক প্রবেশ অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং তারা প্রথম ম্যাচের আগে একদিন ও পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে দুই দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবে। এদিকে, মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান যে বিশ্বকাপের জন্য প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় এবং অপরিহার্য সহায়ক কর্মীদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে, যাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একই সাথে তিনি বলেন, “কেউ যেন ভুয়া পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা সতর্ক আছি।”
এর আগে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরানি প্রতিনিধিদলের কিছু সদস্যের সাথে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর যোগসূত্র থাকতে পারে, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্র একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরান আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে। এরপর ২১ জুন একই শহরে তারা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে। আগামী ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে ইরান।