জাতীয়

১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন রাজধানীর যানজট কমাতে, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করতে এবং দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণে কাজ করছে। রাজধানীতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, জানান ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
আজ রবিবার (২৪ মে) সচিবালয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, রাজধানীতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে কাজ চলছে।
নির্ধারিত কাজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের ছুটির পর কাজ পুনরায় শুরু হবে এবং এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক এলাকায় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হবে। মো. আবদুস সালাম বলেন, শহরের মোট ২২টি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। যানবাহনগুলো সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করছে। তবে, যানজট পুরোপুরি কমাতে রিকশা ও গণপরিবহনকে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাত খালি করতে অনেক জায়গা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ঈদের পর বাকি এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে রাজধানীর ট্রাফিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ঢাকার নয়, সারাদেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবছেন। বিশেষ করে গাবতলী থেকে পোস্তা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ঈদের পর তিনি এই প্রকল্পটি পরিদর্শন করবেন। মো. আবদুস সালাম বলেন, এই সড়কের কাজ দ্রুত শেষ হলে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে যাওয়া যানবাহনগুলোকে আর যাত্রাবাড়ী হয়ে যেতে হবে না। একইভাবে, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গে যাওয়া যানবাহনগুলোও ঢাকা শহরে প্রবেশ না করেই চলাচল করতে পারবে। এতে রাজধানীর যানজট অনেকটাই কমে যাবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে ঢাকা শহরের কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর সুবিধার জন্য লক্ষ লক্ষ ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে, যাতে কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলা যায়। জনগণকে আহ্বান জানিয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, কোনো অবস্থাতেই কোরবানির বর্জ্য নর্দমায় বা অন্য কোথাও ফেলা উচিত নয়। সবাই সহযোগিতা করলে যত দ্রুত সম্ভব শহরকে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হবে।