আন্তর্জাতিক

সমালোচনার মুখে বিজয় আরও একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন

তামিলনাড়ুতে একটি সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) অনিয়মের অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থালাপথি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু সরকার একটি সরকারি চুক্তি বাতিল করেছে। এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
রাজ্যের থুথুকুডি জেলার একটি গ্রামে ১৬.৮৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩,০০০ লিটারের একটি ওভারহেড জলের ট্যাঙ্ক নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়াটি গত ১৯ মে শেষ হয়েছিল। তবে, এই টেন্ডারের অস্বাভাবিক সময়সীমা একটি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ঠিকাদারদের ১৩ মে থেকে টেন্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে, টেন্ডারটি ১৮ মে সকাল ৯টায় খোলা হয় এবং মাত্র ৬ ঘণ্টা পরেই—বিকাল ৩টায়—বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরের দিন, বিকাল ৪টায়, একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে কাজের আদেশ দেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর, ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে টেন্ডারটি বাতিল করা হয়। তদন্ত চলাকালীন দুই কর্মকর্তাকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত মাসে নির্বাচনে টিএমসি-র কাছে ক্ষমতা হারানো ডিএমকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের ওপর তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। ডিএমকে-র প্রবীণ নেতা অমুথারাসন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে কোনো কোম্পানির পক্ষে বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) তৈরি করা এবং সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা কীভাবে সম্ভব?’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এটি একটি পূর্ব-পরিকল্পিত চুক্তির রাজনীতি! পল্লী উন্নয়ন ও জলসম্পদ মন্ত্রী এন আনন্দ প্রথম দিনেই কেন এমন জরুরি পদক্ষেপ নিলেন? নাকি এটি একটি পূর্ব-পরিকল্পিত চুক্তির ওপর ‘কর্তৃত্বের মোহর’? টি নগর আসনের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে আপনারা কি সৎ রাজনীতির পরিবর্তে ‘সংকটকালীন টেন্ডার’-এর রাজনীতি করছেন?’
মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের সরকারের ক্ষমতায় আসার পর এটি দ্বিতীয় বড় ধাক্কা। এর আগে, একজন জ্যোতিষীকে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নতুন সরকার বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে, টিভিকে দাবি করেছিল যে রাধান পণ্ডিত ভেত্রিভেল নামের জ্যোতিষীকে শুধুমাত্র মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং এই পদের সঙ্গে তাঁর পেশার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবে, তীব্র সমালোচনার মুখে দলটি অবশেষে তাঁকে পদ থেকে সরাতে বাধ্য হয়।
তবে, বিতর্কের পাশাপাশি, ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনগুলিতে বিজয়ের টিভিকে সরকার প্রশংসাও কুড়িয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসস্ট্যান্ড এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘টাসম্যাক’ মদের দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ায় নতুন প্রশাসন ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।