দেশজুড়ে

প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, হাসপাতালে ভাঙচুর ও বিক্ষোভ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসার কারণে রুমা আক্তার (২৫) নামে এক গর্ভবতী মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে গর্ভবতী মহিলার স্বজনরা হাসপাতালটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার লাইভ কেয়ার হাসপাতালে। নিহত রুমা আক্তার (২৫) শ্রীপুর উপজেলার হেরাপটকা গ্রামের বাসিন্দা মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার উজিলব গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের মেয়ে।
মৃতের স্বজনরা জানিয়েছেন, রুমা আক্তারকে গতকাল সকাল ১১টার দিকে প্রসবের জন্য মাওনা চৌরাস্তার লাইভ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। আজ সকালে সেহরি খাওয়ার পর হঠাৎ তার পেট ফুলে যায় এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে উত্তরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। স্বজনদের অভিযোগ, পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে আজ সকাল ৭টার দিকে লাইভ কেয়ার হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা হাসপাতালের প্রবেশপথ, ফার্মেসি, ওয়েটিং রুম, রিসেপশন, ডাক্তারদের কক্ষ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। প্রাণের ভয়ে হাসপাতালের কর্মীরা হামলার পর পালিয়ে যান। মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে রেখে স্বজনরা বিক্ষোভ করছেন।
তথ্য পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শিশুটির বাবা মানিক মিয়া অভিযোগ করেন যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসা এবং অবহেলার কারণে তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আজাহারুল ইসলাম পারভেজ তার মোবাইল ফোনে জানান, আশুলিয়া মহিলা ও শিশু কেন্দ্রের ডাঃ রাজশ্রী ভৌমিক, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাজশ্রী ভৌমিক অপারেশন করেছেন এবং ডাঃ রেজুয়ান অ্যানেস্থেসিয়া করেছেন। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। রোগী সেখানেই মারা যান। পরে স্বজনরা লাশ নিয়ে হাসপাতালে আক্রমণ করে, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত অপারেশন থিয়েটার ভাঙচুর করে, যার ফলে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তারা নগদ ২০ লক্ষ টাকা লুট করে। তারা হাসপাতালের কর্মীদের মারধর করে আহত করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপজেলা সরকার কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। নবজাতকটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়েছে।