হরমুজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, হামলায় উভয় জাহাজই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও (ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস) জানিয়েছে যে, আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে ওমানের লিমা উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণমুখী জাহাজটি লিমা থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১৫ কিলোমিটার) পূর্বে থাকাকালীন এর বাম পাশে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যদিও আগুন লেগে গিয়েছিল, তবে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। রয়টার্স স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি যে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লিখিত জাহাজ এবং ইউকেএমটিওর প্রতিবেদনে উল্লিখিত ট্যাংকারটি একই ছিল কিনা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রস্তুত’—আইআরজিসি-র সতর্কবার্তা
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সপ্তাহান্তে একটি সামুদ্রিক রেডিও বার্তায় জাহাজগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আপনাদের ওপর হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত।” প্রতিবেদন অনুসারে, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল ‘আল রেকায়াত’, যা কাতারের নাকিলাত (কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি) দ্বারা পরিচালিত একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ।
জাহাজটির উপরের ইঞ্জিন রুমে আঘাত হানা হয় এবং আগুন ধরে যায়। একটি রেডিও বার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগেছিল এবং তা ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে, সকল নাবিক নিরাপদ আছেন। হামলার সময় জাহাজটি হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথে ওমান উপসাগরে ছিল।
এই ঘটনা সম্পর্কে নাকিলাত, কাতার এনার্জি বা কাতারের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এখন বৈশ্বিক বাজার ও জ্বালানি খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

