জাতীয়

লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবিব উল্লাহ লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল ইমাদ মুস্তফা আল-তারাবুলুসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, উভয় দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যকার গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকরা তাদের সততা, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লিবিয়ার জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
একই সাথে, তিনি অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে প্রবাসী নাগরিকদের আইনি মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে লিবিয়া সরকারের অগ্রাধিকারের ওপর আলোকপাত করেন। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশী কর্মী নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিবিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করবেন।
রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশী নাগরিকরা লিবিয়ার সেবা, নির্মাণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। বাংলাদেশী নাগরিকদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য লিবিয়ার জাতীয় ঐক্য সরকারের গৃহীত উদ্যোগের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একই সাথে, তিনি বর্তমানে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশী নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে, মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে লিবিয়া সরকারের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে বাংলাদেশী নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বৈঠক চলাকালে, রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসন রোধে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন এবং এ বিষয়ে লিবিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি উভয় দেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সফর আয়োজনের ওপর জোর দেন। এছাড়াও, তিনি লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে আটক বাংলাদেশীদের কল্যাণে সহায়তা করতে এবং অপহৃত ও জিম্মি হওয়া বাংলাদেশী নাগরিকদের উদ্ধারে লিবিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়।