দেশজুড়ে

যমুনায় তলিয়ে গেল গোপালপুরের ৬০ ফুট সড়ক, ভোগান্তি

যমুনা নদীর তীব্র ভাটার কারণে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের সাখারিয়া-নলিন এলাকায় তারাকান্দি-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি বড় অংশ তলিয়ে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে ক্রমাগত ভাটার কারণে গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) রাতে নলিন বাজারের কাছে সড়কের প্রায় ৬০ ফুট অংশও নদীতে তলিয়ে যায়।
একই সাথে, সড়কের মাঝখানে একটি নতুন ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকির কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং প্রবল স্রোতের চাপে সাখারিয়া স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকার সড়ক-বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাটা দেখা দিয়েছে। মহাসড়কের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আশেপাশের বাড়ির বাসিন্দারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন যে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে গোপালপুর ও এর আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার একটি বড় অংশ প্লাবিত হতে পারে। এতে লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা শামসুল আলম বলেন, সাখারিয়া ও নলিন এলাকার ভাঙন কবলিত অঞ্চলে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং একটি বড় এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সড়কে ফাটল ও ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সাখারিয়া স্লুইস গেট সংলগ্ন প্রায় ১০০ ফুট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলতে দেখা গেছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোরশেদ জানান, যমুনায় পানি বাড়ার কারণে স্রোতের চাপ বেড়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মইন উদ্দিন জানান, পানির তীব্র চাপে আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া নদীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে টানা দ্বিতীয় দিন ধরে তারাকান্দি-ভুঁইয়াপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। হেমনগর পুলিশ ফাঁড়ি জানিয়েছে, বিকল্প হিসেবে নলিন বাজার দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত নদী খনন ও কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনার অভাবে যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।