বাংলাদেশের রাস্তায় ‘আর্জেন্টিনা বাস’
আসন্ন বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন। নিজেদের প্রিয় দলের পতাকা ও ব্যানার দিয়ে ঘরবাড়ি সাজানো নতুন কিছু নয়। তবে এবার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পরিবহন ব্যবসায়ী এবং ‘মাকসিম ট্রাভেলস’-এর মালিক গোলাম কিবরিয়া মাকসিম সেই উন্মাদনাকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছেন।
নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে তিনি একটি আস্ত যাত্রীবাহী বাসকে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে সাজিয়েছেন। নীল ও সাদা রঙে মোড়ানো বাসটিতে রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির একটি বিশাল প্রতিকৃতি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বাসটি আর্জেন্টিনার জার্সির নকশায় তৈরি করা হয়েছে। তবে দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বাসটির মাঝখানে বাংলাদেশের পতাকা আঁকা হয়েছে এবং বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে – ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’।
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি ইতোমধ্যেই নালিতাবাড়ী ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাস্তায় নামার পর থেকেই বাসটি পথচারী, যাত্রী ও ফুটবল অনুরাগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে। অনেকেই বাসটির সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ সেই ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ম্যাক্সিম ট্রাভেলসের এই বাসটি রাজধানীর নলিতাবাড়ি থেকে মহাখালীর উদ্দেশে প্রতিদিন দুপুর ১২টায় ছেড়ে যায় এবং রাত ৮টায় মহাখালী থেকে নলিতাবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। এই প্রথম একটি যাত্রীবাহী বাসকে সম্পূর্ণভাবে একটি ফুটবল দলের রঙে সাজানো হয়েছে, যা অনুরাগীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থক বিপ্লব দে কেতু (৫৪) বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। জীবনে অনেক ধরনের সমর্থন দেখেছি, কিন্তু এলাকায় আর্জেন্টিনার রঙে এভাবে রাঙানো বাস আগে কখনো দেখিনি। বাসে মেসির ছবি দেখে আমার মন ভরে গেল।”
স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল মান্নান সোহেল বলেন, বিশ্বকাপের প্রাক্কালে ফুটবলপ্রেমীরা যখন নিজেদের প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা নিজেদের মতো করে প্রকাশ করতে ব্যস্ত, তখন নলিতাবাড়িতে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙানো এই বাসটি স্থানীয়দের জন্য এক নতুন আকর্ষণ এবং ফুটবল উন্মাদনার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে। যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বাসটির মালিক গোলাম কিবরিয়া ম্যাক্সিম যুগান্তরকে বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলে ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি সবার মাঝে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি।” বাসটি রাস্তায় নামানোর পর থেকে আমি যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উত্তেজনা লক্ষ্য করেছি।
তিনি আরও বলেন, “ফুটবল মানুষকে একতাবদ্ধ করে। দল ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু খেলার আনন্দ সবার জন্য। তাই, বাসটি আর্জেন্টিনার রঙে সজ্জিত হলেও আমরা বাংলাদেশের পতাকার ওপর জোর দিয়ে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ বিষয়টি তুলে ধরেছি।”

