বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডোবা: তিন দিন পরেও ৫ জেলে উদ্ধার হয়নি
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবলীর মৌদুবি ইউনিয়ন ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার ডোবার তিন দিন পরেও পাঁচজনকে উদ্ধার করা যায়নি। তবে নিখোঁজ ছয়জন জেলের মধ্যে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) রাতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ভোলার একদল জেলে তাকে উদ্ধার করেন। গলাচিপা ও রাঙ্গাবলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া জেলের নাম আল আমিন (৪৫)। তিনি গলাচিপা উপজেলার গাজালিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং চান মিয়ার ছেলে। দীর্ঘক্ষণ সমুদ্রে ভাসার পর ভোলার জেলেরা তাকে জীবিত উদ্ধার করে চর ফ্যাশনে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি বর্তমানে চর ফ্যাশনে উদ্ধারকারী ট্রলারের এক জেলের বাড়িতে থাকছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাকে সঙ্গে সঙ্গে নিজ এলাকায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। আবহাওয়ার উন্নতি হলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে নিখোঁজ পাঁচ জেলের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত রবিবার রাত ১০টার দিকে রঙ্গাবলীর মৌদুবি ইউনিয়ন ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের খারিদা গ্রামের ইমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১১ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর পাঁচজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ছয়জন নিখোঁজ হন। তিন দিন পর আরও একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পাঁচজন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ট্রলারটি উল্টে যাওয়ার পর থেকে স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, স্থানীয় জেলে এবং আশেপাশের মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

