জাতীয়

প্রক্সির মাধ্যমে সরকারি চাকরি: মন্ত্রণালয়ে যোগদানের চেষ্টায় ৪ জন ধরা

নিজেদের পরিবর্তে অন্য কাউকে (প্রক্সি) ব্যবহার করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার এক অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিল তারা। তারা ভেবেছিল, এবার সরকারি চাকরিটা হয়ে গেল! কিন্তু তা হয়নি। ‘অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পদে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের চেষ্টায় চার যুবক ধরা পড়েছেন।
আজ রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের সময় প্রতারণা ধরা পড়লে তারা গ্রেপ্তার হন। এই ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপ-সচিব শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃত চারজন হলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. এ. হালিম (রোল-১৯০০৪৪৮১), সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার (রোল-১৯০১৬৩৯১) এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন (রোল-১৯০১১৯৩৩) ও মো. মাসুদ ফকির (রোল-১৯০১৯২৫৭)। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শরিফুল ইসলাম বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত বাছাই পর্বের যোগদান পর্ব আজ ছিল।
অফিস সহকারী পদে ২০ জন এবং শর্টহ্যান্ড-টাইপিং কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ৫ জনের যোগদান করার কথা ছিল। এর আগে, যেদিন তারা মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছিল, সেদিন আমরা তাদের প্রত্যেকের ছবি তুলেছিলাম। আজ যারা যোগদান করতে এসেছেন, তাদের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে আমরা চারজনের চেহারায় অমিল দেখতে পাই।
তিনি আরও বলেন, নথি ও ছবি যাচাই করার পর দেখা গেছে যে, এই চারজন আসলে মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসেননি। অন্য কেউ এসে তাদের হয়ে প্রক্সি দিয়েছিলেন। পরে আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করে যে, তারা মৌখিক পরীক্ষা দেয়নি, বরং অন্য কেউ দিয়েছে। আমরা এখন তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট (গ্রেড-২০) পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা ২৪, ২৫ ও ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীর ছবি তোলা হয়েছিল। এরপর, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ১ নম্বর কক্ষে যোগ দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ে চারজন যোগ দিতে এলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে, মৌখিক পরীক্ষার দিন তোলা ছবিগুলো মিলিয়ে দেখার পর জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, অন্য একজন তাদের হয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। তারা এ ব্যাপারে লিখিতভাবে নিজেদের দোষ স্বীকারও করেছে।