পটুয়াখালীতে তরুণের মরদেহ উদ্ধার, রুমমেট পলাতক
পটুয়াখালীর একটি ভাড়া বাড়ি থেকে ফয়সাল বাদশা নামের এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর সবুজবাগ লেন নং ১০-এর একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত ফয়সাল বাদশা ওই এলাকার একটি ‘সফট-বাইট’ প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা এবং পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এদিকে, ফয়সাল বাদশার রুমমেট নাইমুল ইসলাম চয়ন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। চয়নও একই প্রতিষ্ঠানে ফয়সালের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। ফয়সালের সহকর্মীরা জানান, গতকাল সকাল থেকে তাঁরা ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে বিকেলে তাঁর খোঁজে তাঁর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা বিছানার পাশে মেঝেতে ফয়সালকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত ফয়সাল বাদশা প্রায় ৮ লাখ টাকা এবং তাঁর পলাতক সহকারী নাইমুল ইসলাম চয়নের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। নিয়মিত হিসাব পর্যালোচনার সময় এই গরমিল ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে এবং আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা দুজনেই টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন। মানবিক কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাঁদেরকে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ দেয়। তাঁরা মালিককে জামানত হিসেবে চেক ও স্ট্যাম্প জমা দিয়ে কাজে বহাল ছিলেন।
কিন্তু কিস্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাঁরা দুজনেই হঠাৎ করে কথা রাখেননি। পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া, পলাতক চয়নকে খুঁজে বের করতে তথ্যপ্রযুক্তিসহ নানা পদক্ষেপে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ দায়ের হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

