টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠল মিশর
বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে মিশর। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ায়, ফলাফল নির্ধারণের জন্য ম্যাচটি অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায়। সেখানেও দুই দল ড্র করে। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) মধ্যরাতে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচের শুরুতেই মিশর এগিয়ে যায়। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ইমান গোল করে অচলাবস্থা ভাঙেন।
এই সময়ে, মিশর ফ্রি-কিক থেকে একটি সুপরিকল্পিত আক্রমণ সাজায়। মোহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে ইমান আশুরকে একটি ছোট পাস দেন। আশুরের প্রথম শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। তবে, অস্ট্রেলিয়া বলটি ক্লিয়ার করতে পারেনি। বলটি আবার বক্সে ভেসে আসে এবং ব্যাক পোস্টে ওঁত পেতে থাকা আশুর এবার কোনো ভুল করেননি। নিখুঁত হেডে আফ্রিকান দলটি এগিয়ে যায়। সালাহর দল ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ১০ম মিনিটে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে অস্ট্রেলিয়া সমতা ফেরায়। ফ্রি-কিক থেকে আসা উড়ে আসা বলটি ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন হানি। কিন্তু ঠিকমতো সংযোগ ঘটাতে না পারায় বলটি তার নিজের জালে জড়িয়ে যায়। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
নির্ধারিত সময় ড্র হওয়ায় খেলাটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। ম্যাচের এই অংশে উভয় দলই একাধিক আক্রমণ চালায়। কিন্তু কেউই গোল করতে পারেনি। উভয় দেশের ফরোয়ার্ডরা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে কাটিয়ে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়া গোলরক্ষক পরিবর্তন করে। প্যাট্রিক বিচের পরিবর্তে মাঠে নামেন ম্যাথিউ রায়ান। এই অংশে মিশরের চারজন খেলোয়াড়ই বল জালে পাঠান। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার দুজন খেলোয়াড় গোল করতে ব্যর্থ হন।
এতে ফলাফল নির্ধারণের জন্য পঞ্চম শটের প্রয়োজন হয়নি। চতুর্থ শটেই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়। টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠেছে মিশর। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল মিশরের দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচ। এর আগে তারা ১৯৩৪ বিশ্বকাপে একবার নকআউট পর্বে খেলেছিল। তবে পুরো টুর্নামেন্টটি সরাসরি নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৭ জুলাই শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবেন সালাহ। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

