জাতীয়

আইনজীবীর দাবি, পালকের ঘাড়ের দুটি ও কোমরের তিনটি হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে

সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পালকের আইনজীবী তারিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, প্রিজন ভ্যান দুর্ঘটনায় তার ঘাড়ের দুটি ও কোমরের তিনটি হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রিজন ভ্যান দুর্ঘটনার পর আমরা এমআরআই করার অনুরোধ করেছিলাম। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পিজি হাসপাতালে সাবেক প্রতিমন্ত্রী পালকের এমআরআই করা হয়। আজ আমরা এমআরআই রিপোর্ট পেয়েছি।
তারিকুল জানান, রিপোর্টে দেখা গেছে পালকের কোমরের তিনটি হাড়, যথাক্রমে এল-২, এল-৩ এবং এল-৪, স্থানচ্যুত হয়েছে। এছাড়া তার ঘাড়ের দুটি হাড়ে সমস্যা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ঘাড়ের সি৫-সি৬ এর মধ্যবর্তী একটি এবং সি৬-সি৭ এর মধ্যবর্তী ডিস্কে সমস্যা পাওয়া গেছে। ২৮শে এপ্রিল, পালকের আরেক আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি দাবি করেন যে, জুনাইদ আহমেদ পালক ১৯শে এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় উপস্থিত ছিলেন। শুনানির পর কারাগারে যাওয়ার পথে আরেকটি গাড়ি প্রিজন ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি প্রিজন ভ্যানের ভেতরে পড়ে যান এবং তার ঘাড়ে আঘাত লাগে। পালক এমআরআই করাতে চান। এর জন্য তিনি আদালতে আবেদন করতে বলেছেন।
এই বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর, কারা বিভাগের এআইজি (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ এক বিবৃতিতে দাবি করেন যে প্রিজন ভ্যানটি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়নি। তিনি সেদিন বলেন, “আসল বিষয়টি হলো, ১৯ এপ্রিল পোস্টগোলা ব্রিজ থেকে প্রিজন ভ্যানটি নামার সময় জোরে ব্রেক কষলে ভেতরে থাকা চার ডিভিশনের বন্দিদের মধ্যে জুনায়েদ আহমেদ পালক নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে আরেক বন্দি ফজলে করিম চৌধুরীর সঙ্গে ধাক্কা খান। ফলে তার ঘাড়ে ‘সামান্য ব্যথা’ হয়। এ ব্যাপারে এমআরআই-সহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছে। কেউ আহত হননি।”
পালকের আইনজীবী তারিকুল মঙ্গলবার বলেন, জুনায়েদ আহমেদ পালক আগে থেকেই অসুস্থ। গত শনিবার কারাগারে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। ঘাড় ও কোমরের হাড় অপসারণ করা হলেও কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তার চিকিৎসার জন্য আমরা আদালতে আবেদন করব। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট পালককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতে হাজির করা হলে পালক আইনজীবীকে বলতেন। তার পিঠের ব্যথা সম্পর্কে। তাকে কোমরে একটি বেল্ট পরা অবস্থায়ও দেখা গিয়েছিল।