বিনোদন

জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দুড়া বাজারের বিএনপি কার্যালয়ে একটি মধ্যস্থতা অনুষ্ঠিত হয়। রিপন মিয়া দায় স্বীকার করেছেন। জানা গেছে, মধ্যস্থতায় তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রিপন মিয়া দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মোক্তাল হোসেনের ছেলে। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। পেশায় তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি। বেশ কয়েক বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত রিপন মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে তার নিজের এলাকারই এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির পরিবারের দাবি, রিপন প্রায়ই মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রিপন বাড়ির উঠোনে রান্না করার সময় মেয়েটিকে কৌশলে বাড়ির পেছনে ডেকে এনে ধর্ষণ করে। পরে, দুজন স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাটি দেখলে তাদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে স্থানীয়রা বিষয়টি সমাধানের জন্য দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কার্যালয়ে একটি সালিশের আয়োজন করেন। সেই সালিশে রিপন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সাবেক কেন্দ্রীয় বিএনপি সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আবদুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদিন, দৌলত মিয়া ও অন্যান্য স্থানীয়রা রবিবার রাতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কার্যালয়ে একটি সালিশে বসেন। সালিশে রিপন মিয়া নিজের দোষ স্বীকার করেন। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ৫ দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সালিশের একটি ভিডিওতে রিপন মিয়াকে সবার সামনে বলতে দেখা যায়, ‘আমার দোষ থাকলেও তা থাকবে, না থাকলেও থাকবে। আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’ সে সময় তাকে (রিপন) সালিশে উপস্থিত মুরব্বিদের পা ধরে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়।
জেলা এনসিপি-র কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘’রিপন ভিডিও’-র রিপন মিয়া যা করেছে, ধর্ষণ বা অনৈতিক সম্পর্ক, তা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। উপযুক্ত প্রমাণসহ পুলিশকে ডেকে তাকে থানায় নিয়ে যান। তার জেল ও জরিমানা হোক। কিন্তু শাসক দলের রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসে বসে একটি ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার ঔদ্ধত্য দেখানো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি খারাপ উদাহরণ….’
সালিশে অংশগ্রহণকারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, মেয়েটি খুবই গরিব পরিবারের। টাকার লোভ দেখিয়ে রিপন মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। আমরা জানতে পেরেছি যে, ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণের নয়। মেয়েটির পরিবারের মামলা করার মতো সামর্থ্যও নেই। তাই স্থানীয়রা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলেছেন।
ফৌজদারি মামলা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েটির গরিব পরিবারের কথা বিবেচনা করে এমনটা করা হয়েছে। এদিকে, রিপন মিয়া রবিবার রাত থেকে আত্মগোপন করে আছেন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে আমরা এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।