স্ত্রীর আত্মহত্যা মামলায় আলভী জামিন পেলেন, মুক্তিতে কোনো বাধা নেই
অভিনেতা জহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া তার স্ত্রী আফরা ইভানাত ইকরার আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় জামিন পেয়েছেন। গতকাল রবিবার (২ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ফলে তার কারাগার থেকে মুক্তি পেতে কোনো বাধা নেই। আদালতে আলভীর জামিনের আবেদনের শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদিন।
এর আগে গত ১৮ জুন অভিনেতা ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানির পর আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে গত ২১ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। গত ২৪ জুন ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনি মীর শুনানির পর তাকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত ৩০ জুন রিমান্ড শেষে আলভিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাড়ি থেকে ইকরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় তার স্বামী জহের আলভি নেপালে ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে অভিনেতা লেখেন, “আজ বিকেলে মিরপুর ডিওএইচএস-এ নিজের বাড়িতে আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি নেপালে শুটিং করছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে আমি কথা বলতে পারছি না। আমি বুঝতে পারছি না, আমাদের সন্তান ও আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।”
গত ১ মার্চ ইকরার বাবা এই ঘটনায় আলভিকে প্রধান অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি ইকরার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। মামলায় আলভির মা এবং কথিত প্রেমিকা তিথিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অভিনেতা আলভি ও ইকরা ভালোবাসার টানে ২০১০ সালের ৯ই নভেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৪ বছর ধরে নিজেদের বিয়ে গোপন রাখার পর ২০২৪ সালে তা প্রকাশ্যে আসে। তাঁদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে।

