আন্তর্জাতিক

ইমরান খানকে মুক্তি দিতে গোপনে আলোচনা চলছে পাকিস্তানে

গুজব শোনা যাচ্ছে যে, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। দেশের প্রভাবশালী সামরিক সূত্র এবং খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে যে, তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।
৭৩ বছর বয়সী এই নেতা গত তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে নির্জন কারাবাসে রয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে আত্মীয়স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে তার সম্পূর্ণ যোগাযোগহীনতা এবং চোখের অস্ত্রোপচারের পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে তার পরিবার ও সমর্থকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
‘দ্য অবজারভার’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম বলেছেন, তাদের বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে এবং তাকে নিরপেক্ষভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং চিকিৎসার জন্য তার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন।
এর আগে ২০১৯ সালে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ভাই নওয়াজ শরিফের সঙ্গেও চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার একটি অনুরূপ চুক্তি হয়েছিল। তবে, মনে করা হচ্ছে যে ইমরান খানের মুক্তি কঠোর শর্তসাপেক্ষ হতে পারে, যেমন দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এবং নীরব থাকা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন যে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এই শর্তগুলো সহজে মেনে নেবেন না, কারণ তিনি একজন অত্যন্ত আপোষহীন ব্যক্তি। মানবাধিকার আইনজীবী এবং ইমরানের ব্যক্তিগত বন্ধু ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ মনে করেন যে, ইমরান খান তার নীতিতে অটল থাকবেন এবং সামরিক নেতৃত্ব তাকে সহজে মুক্তি দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইবে না।
যদিও তিনি ২০১৮ সালে সামরিক বাহিনীর ছত্রছায়ায় ক্ষমতায় এসেছিলেন, পরে সেনাপ্রধানদের সঙ্গে বিরোধের কারণে ২০২২ সালে একটি অনাস্থা ভোটে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তারপর থেকে দেশের সরকার ও সামরিক কর্তৃপক্ষ তাকে রাজনীতি ও গণমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে আসছে।
তবে বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী সেনাবাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, ইমরানের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি কেবল আদালতেই হবে এবং চিকিৎসার কারণে তাকে জামিন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।