আন্তর্জাতিক

রাজস্থানে বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ জনের মৃত্যু

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের দৌসা জেলার কাছে দিল্লি-মুম্বাই মহাসড়কে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার বাসে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আগুন লেগে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোর আড়াইটার দিকে। দুর্ঘটনার পর বাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অনেক যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে শুরু করেন। কেউ কেউ জানালা ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে, আগুনের তীব্রতার কারণে কেউ কেউ বাসের ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বাসটি উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর যাচ্ছিল। দৌসার কাছে দ্রুত গতিতে চলার সময় বাসটি একটি বড় মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরপরই বাস এবং ট্রাকে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন দৃশ্য থেকে দেখা যায় যে, আগুনে দুটি যানবাহনই প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। দূর থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল। স্থানীয়রা প্রথমে নিজ উদ্যোগে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বাকি দুজন মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে মারা যান। দুর্ঘটনার সময় বাসের উপরের বার্থে থাকা কয়েকজন যাত্রী নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় নিহতদের বেশিরভাগই ঘুমিয়ে ছিলেন। ২২ জন আহতকে দ্রুত দৌসা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানান, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসচালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন অথবা বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। এই দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে তদন্ত চলছে। এছাড়া বাসটির যান্ত্রিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল এবং দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছিল। তাদের দাবি, উদ্ধার অভিযান দ্রুত শুরু হলে আরও কয়েকটি জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। স্থানীয়দের মতে, আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনা হয়।
কিছু স্থানীয় বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেছেন যে বাসের লাগেজ কামরায় প্রচুর সিগারেটের প্যাকেট ছিল। এই দাহ্য পদার্থগুলোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে, এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
রাজস্থান প্রশাসন জানিয়েছে যে দুর্ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রশাসন আরও জানিয়েছে যে আহতদের চিকিৎসার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে একের পর এক বড় সড়ক দুর্ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতি, চালকদের একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো এবং অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নগুলো আবারও সামনে এসেছে। দৌসায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সেই উদ্বেগগুলোকে আরও গভীর করেছে।