আমাদের চট্টগ্রাম

বিএসবিআরএ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা:  নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ঋণখেলাপি আমজাদের হুমকি! 

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচন পরিচালনের বোর্ডের আপিল বোর্ড থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায়ে তিনি একজন ঋণখেলাপি। তাই বিএসবিআরএ নির্বাচনে তার প্রার্থীতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচন আয়োজনের আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান। এতে ক্ষুব্ধ হন রাইজিং স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শীর্ষ ঋণখেলাপি আমজাদ হোসেন চৌধুরী। অভিযোগ ওঠেছে, আমজাদ চেয়ারম্যানকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। তবে আমজাদ হোসেনের দাবি, তিনি কাউকে কোন ধরনের হুমকি দেননি; নির্বাচন পরবর্তী মামলার জন্য চেয়ারম্যানকে প্রস্তত থাকতে বলেছেন।

জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ঋণ খেলাপির অভিযোগ আমজাদের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। এরপর তিনি নির্বাচন আপিল বোর্ডে আপিল করলে শুনানিতে আপিল নামঞ্জুর হয়। গত ১০ মে লিখিত পত্রের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের আপিল বিভাগে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সিআইবি রিপোর্টে ঋণ খেলাপি সাব্যস্ত হওয়ায় আপিল বোর্ড আমজাদের আপিল নামঞ্জুর করে।

নির্বাচনী বোর্ডের এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আমজাদ হোসেন। এতে তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের আদেশ দেন আদালত। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে নির্বাচন বোর্ড। গত ৩ জুন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ উচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে ৮ জুন পর্যন্ত নির্বাচনের সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দিয়ে ৮ জুন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেন। এদিন ঋণখেলাপির দায়ে আদালত তার প্রার্থীতা বাতিল করে নির্বাচন বোর্ডের পক্ষে রায় দেওয়ায় বৈধতা হারান আমজাদ। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের বিচারক প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. আশফাকুল ইসলাম, মো. রেজাউল হক এবং ফারাহ মাহবুবের আদালত এ আদেশ দেন।

আদেশের পর গতকাল বুধবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী। আগামী শনিবার নগরীর রেডিসন ব্লুতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরই আমজাদ হোসেন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ম্যাসেজ পাঠান। সেখানে তিনি বলেন,‘আসসালামু আলাইকুম। যাদের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন শিডিউল দিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে খরচের টাকা বেশি করে নিয়ে নিয়েন। কারণ আপনাকে নির্বাচনের পরে কোর্টে যাতায়াত করতে হবে; তখন তারা আপনার পাশে থাকবে না।’

আমজাদ হোসেনের হুমকির বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি আফতাব উদ্দিন চৌধুরী। তবে মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ৩ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল; কিন্তু মামলার কারণে হয়নি। গত ৮ জুন আপিল বিভাগ আমজাদ হোসেনকে ঋণখেলাপি হিসাবে রায় দেন এবং নির্বাচন আয়োজনের বিষয়েও নির্দেশনা দেন। সেই রায়ের আলোকে আমরা ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন ম্যাসেজ পাঠানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে হুমকি দেইনি। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করছে; তাই চেয়ারম্যানকে আদালতে যেতে হবে বলেছি। এখানে হুমকির কিছু নেই।

জানা গেছে, গত বছরের ২৫ অক্টোবর বিএসবিআরএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১১ জন। তখনও আমজাদ হোসেনের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর ‘স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন’ করতে না পারার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দেয় নির্বাচন বোর্ড। ফলে আর নির্বাচন হয়নি।

২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর সংগঠনের সংঘবিধি লঙ্ঘন করে সভাপতির পদ দখল করেন আমজাদ। সংগঠন পরিপন্থি কর্মকা-ের অভিযোগে আমজাদকে অপসারণ করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সচিব আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলামকে প্রশাসক নিয়োগ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দায়িত্ব নিয়েই প্রশাসক ১ মার্চ নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও নির্বাচন আপিল বোর্ড গঠন এবং ২ মার্চ তফসিল ঘোষণা করেন।