দেশজুড়ে

চট্টগ্রামে গ্রাফিতি অপসারণ নিয়ে উত্তেজনা

চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে গ্রাফিতি অপসারণ নিয়ে বিএনপি ও এনসিপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের পাশাপাশি কিছু এলাকায় উভয় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
গতকাল রবিবার (১৭ মে) রাতে শহরের টাইগার পাস এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার জেরে আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে সিএমপি জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও তার আশপাশের এলাকায় সব ধরনের জনসভা, মিছিল ও সভা নিষিদ্ধ করে।
তবে সেই আদেশ অমান্য করে বিকেলে এনসিপি নেতা-কর্মীরা রং নিয়ে টাইগার পাস এলাকায় আবারও জড়ো হন গ্রাফিতি আঁকার জন্য। তাদের অভিযোগ, মেয়রের নির্দেশে গ্রাফিতিগুলো সরানো হয়েছে। সরে যেতে বলা হলে তারা পুলিশের সঙ্গে বেশ কয়েকবার হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে এনসিপি-র কয়েকজন নেতা ও কর্মীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পরেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য টাইগার পাস এলাকার উড়াল সড়কের স্তম্ভগুলোতে রং করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এনসিপি দাবি করে যে, মেয়র জুলাই মাসের গ্রাফিতি মুছে স্তম্ভগুলোতে রং করেছেন। উভয় দলের নেতা ও কর্মীরা ফেসবুক স্ট্যাটাস ও লাইভে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এ ইস্যুতে সেদিন রাতে এনসিপি নেতা ও কর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন। এ সময় রং করা স্তম্ভগুলোতে মেয়রের শাহাদাত ও জুলাই মাস নিয়ে বিভিন্ন গ্রাফিতি আঁকা হয়।
মেট্রোপলিটন এনসিপি-র যুগ্ম সদস্য সচিব ড. এম. আর. রহমান মাবরুর বলেন, শহীদদের স্মৃতিফলকের চিত্রকর্ম বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মনে প্রশ্ন ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এখানে জনগণের আবেগ ও ইতিহাসের ঊর্ধ্বে কার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে? এ প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির সদস্য সম্পাদক নাজিমুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, বিএনপি জুলাই আন্দোলনকে ধারণ করে। তাই এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়।

এনসিপির বিবৃতি
টাইগার পাস এলাকা থেকে জুলাই আন্দোলনের স্মারক গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। সংগঠনটির দাবি, এই গ্রাফিতিগুলো শুধু দেয়ালচিত্র নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিবাদী চেতনার প্রতীক। এগুলো মুছে ফেলে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বসানোর উদ্যোগ জনগণের মনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রাফিতি মুছে ফেলার পর এনসিপি ও জুলাই আন্দোলনের কমরেডরা পুনরায় দেয়ালচিত্র আঁকার উদ্যোগ নিলে বিএনপির কিছু নেতা ও কর্মী তাতে বাধা দেন। তবে পুরো সময়জুড়ে কোথাও যান চলাচল বা আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি হয়নি। দেয়াল থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলা গেলেও মানুষের হৃদয় থেকে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না। সংগঠনটি জনগণের আবেগ, শহীদদের স্মৃতি এবং ঐতিহাসিক প্রতীককে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার হাতিয়ারে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন সোমবার (১৮ মে) তাঁর কার্যালয়ে গ্রাফিতি অপসারণের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যুবকদের আত্মত্যাগের কথা শুধু মুখে বললেই চলবে না, তা অন্তর থেকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, আজকাল অনেকেই গ্রাফিতি বা নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করলেও, আহত জুলাই যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা খুব কম মানুষই ভাবেন। ৩ আগস্ট আমার নিজের বাড়িতেই আগুন ও বোমা হামলা হয়েছিল। গ্যাস চেম্বার তৈরি করেও হামলা চালানো হয় এবং এক বৃদ্ধা মাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। ড্রাইভারের সাহসিকতায় পুরো ভবনটি পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
তিনি আরও বলেন, ৪ আগস্ট আহত জুলাই যোদ্ধারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা করা হয়। তিনি বলেন, “গত ৬ আগস্ট আমি নিজে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে আহতদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। আর্ট কলেজের ছাত্রছাত্রীরা নান্দনিক গ্রাফিতি আঁকবে। সিসিসি যদি টাকা জোগাড় করতে না পারে, তবে আমি আমার পকেট মানি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করব।”