বাণিজ্য

ঋণ খেলাপির দায়ে নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে গেলেন আমজাদ হোসেন চৌধুরী

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) নির্বাচন-২০২৬ ঘিরে সভাপতি প্রার্থী মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণ খেলাপি থাকার অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে নির্বাচন বোর্ডে আপত্তি ও আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রাইজিং স্টিল লিমিটেডের প্রতিনিধি ও ভোটার নং-৪৪ মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী গত ৬ মে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শুনানির সময় মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন অলি উল্লাহ মোহাম্মদ সুমন ও একজন আইনজীবী। শুনানিতে নতুন কোনো তথ্য বা দলিল উপস্থাপন করা হয়নি; পূর্বে দাখিল করা কাগজপত্রের ভিত্তিতেই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন বোর্ডের নথিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল ১০ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে প্রার্থীর আর্থিক দায়-দেনা ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অনাদায়ী ঋণের বিষয় উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট নথিতে আরও বলা হয়, আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন বোর্ড বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে।
এছাড়া শুনানিতে দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যাংকে ঋণ পুনঃতফসিল, অনাদায়ী দায় এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচন বোর্ডের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীর আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিএসবিআরএ’র কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজভাঙা শিল্প খাতের নেতৃত্বে আর্থিকভাবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের আসা প্রয়োজন। ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকা কোনো ব্যক্তিকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
তবে এ বিষয়ে মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরীর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে, আপিল শুনানির সকল তথ্য ও দাখিলকৃত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।