ইসলামাবাদ থেকে খালি হাতে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
২১ ঘণ্টায় বেশ কয়েক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো ফল হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই নিজ নিজ সিদ্ধান্তে অটল। তেহরান বলছে, তারা জাতীয় বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না, তবে প্রয়োজনে সামরিক ও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজবে। তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র অসন্তুষ্ট। তবে, ইরানের দাবি, অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে এসে যুক্তরাষ্ট্র খালি হাতে ফিরছে। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের ভাষায় ‘অযৌক্তিক দাবি’ থেকে ওয়াশিংটন সরে দাঁড়ালেই কেবল কোনো অগ্রগতি সম্ভব হবে।
ঘানায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের এক্স (পূর্বতন টুইটার) পোস্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে তাদের উপরাষ্ট্রপতিকে ইসলামাবাদে নিয়ে এসেছে। আলোচনা ২১ ঘণ্টা ধরে চলে। যুদ্ধে যা অর্জন করতে পারেনি, তারা তার সবকিছুই দাবি করেছে। ইরান স্পষ্টভাবে বড়সড় ‘না’ বলে দিয়েছে। আলোচনা শেষ। করিডোর এখনও বন্ধ। এবং উপরাষ্ট্রপতি খালি হাতে ফিরছেন। আবারও, কেবল ইরানই বাকি রইল। তাদের মুখ রক্ষার আর কোনো উপায় নেই।
এদিকে, দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও দুই দেশের প্রতিনিধিরা কোনো শান্তি বা আপোস চুক্তি ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন। তবে, ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অজুহাত খুঁজছিল। ইরানি প্রতিনিধিদলের সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির ফার্স নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজ প্রণালী এবং পারমাণবিক প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে বৈঠকটি ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত হওয়ার পর মুখ রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে বসেছিল। আলোচনার টেবিলে আক্রমণের মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারেনি, তা-ই তারা পেতে চেয়েছিল।
তারা যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোকে বাড়াবাড়ি বলেও অভিহিত করেছে। তারা বলেছে যে, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী এবং পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী শর্ত দিয়েছিল, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের আলোচক দলের কিছু প্রতিনিধি এও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

