নিখোঁজের চার দিন পর ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার নিখোঁজের চার দিন পর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। তিনি জনতা ব্যাংকের ভৈরব শাখায় কর্মরত ছিলেন। গতকার বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকার বিসিক শিল্পনগরীর রেললাইনের পাশের একটি ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আলমগীর হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর লম্বাহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর ঢাকার একটি শাখা থেকে বদলি হয়ে গত বছরের আগস্টে ভৈরব শাখায় যোগদান করেন। ৫ বছর আগে তিনি কালিকাপ্রসাদ এলাকার তাসলিমা আক্তার নামে এক শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন। তাসলিমা ভৈরবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। সূত্র জানায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে তার ঝগড়া চলছিল।
তাসলিমা আক্তার বলেন, গত রবিবার সকালে আলমগীর ব্যাংকে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরার পর, আমরা ব্যাংক থেকে জানতে পারি যে তিনি ব্যাংকে যাননি। এছাড়াও, তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় আমাদের সন্দেহ হয়। পরে, অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর, রাতে থানায় জিডি করি। এরপর, গত ৪ দিন ধরে তাকে পাওয়া যায়নি। বুধবার, কিছু কর্মীর মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই, লাশ শনাক্ত করি এবং পুলিশকে জানাই।
তাসলিমা আক্তার বলেন, আলমগীরের সাথে তার বিরোধ থাকলেও, সেদিন কোনও ঝগড়া হয়নি।
খবর পেয়ে মৃতের ভাই ওয়াহিদুজ্জামান এবং তার পরিবারের সদস্যরা শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ভৈরব থানায় আসেন। ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, তসলিমার কাছ থেকে খবর পেয়ে আমি ভৈরবে আসি। আমার ভাইয়ের কোনও শত্রু নেই। তার স্ত্রীর সাথে প্রায়ই ঝগড়া হয়, এবং সে আমাকে বলে। তবে, সে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমার মনে হয় কেউ তাকে অপহরণ করে হত্যা করেছে। পুলিশি তদন্তে বিষয়টি উদঘাটন হতে পারে।
ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকদ বলেন, “মৃতদেহের পাশে একটি বোতল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে বোতলটি বিষের। এক পায়ে সামান্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মৃত্যুটি কয়েকদিন আগে হয়ে থাকতে পারে।”

