বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে সড়কে যুবককে উল্টো নাজেহাল, বহদ্দারহাটের হোসেন সওদাগরের ছেলের কাণ্ড
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকার হোসেন সওদাগরের ছেলে সাঈদ হোসেন। বড় লোক বাবার টাকার গরমে ধরাকে সরা জ্ঞান করা তাঁর নিত্যদিনের ঘটনা। বহদ্দারহাট কাঁশবন রেস্টুরেন্ট ভবনের অন্যতম মালিকের ছেলে বর্তমানে শাহ আমানত হাউজিং এলাকায় বসবাসকারী সাঈদ হোসেন সড়কে গাড়ি নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে থাকেন। এমন অভিযোগে ট্রাফিক পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছে। সর্বশেষ গত সোমবার বিকাল পৌনে ৪টায় আলী ওয়ামিম খাঁন নামের এক যুবককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলী ওয়ামীম নগরীর পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেছেন।
আলী ওয়ামিম খাঁন জানান, তাকে বহনকারী বাইকে আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভারের বহদ্দারহাট প্রান্ত দিয়ে ওঠার সময় অভিযুক্ত সাঈদ হোসেন বেপরোয়াভাবে তার কালো রঙের নিশান এক্সট্রিল ( চট্ট মেট্রো-ঘ ১১-২৩১২) গাড়ি দিয়ে চাপা দিলে তিনি বাইকসহ পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এসময় গাড়ি থেকে নেমে অভিযুক্ত সাঈদ বিবাদে জড়ান। তখন সড়কে থাকা অন্যান্য যানবাহনের লোকজন সাঈদের বিপক্ষে অবস্থান নিলে সেখান থেকে কৌশলে সরে যান। পরে পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুরে এসে আবার সেই বাইকটির গতিরোধ করে বাইকের পেছনে বসা যাত্রী আলী ওয়ামিমকে বাইক থেকে নামিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
পাঁচলাইশ থানার এসআই মো. নুরুজ্জামান জানান, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সাঈদ হোসেনের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন আলী ওয়ামিম। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, সাঈদ হোসেনের ব্যবহৃত নিশান এক্সট্রিল (চট্ট মেট্রো-ঘ ১১-২৩১২) গাড়িটির মালিক ফটিকছড়ির আবুল হাসেম। তবে সেই ব্যক্তি জানান, অনেক আগেই গাড়িটি বহদ্দারহাট কাশবন ভবনের মালিকের ছেলে সাঈদের কাছে বিক্রি করেছিলেন। গাড়ি বিক্রির পর নাম পরিবর্তনের সকল কাগজে সাক্ষর নিলেও এখন পর্যন্ত নাম পরিবর্তন না করার বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাঈদ হোসেন বহদ্দারহাট এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন। বহদ্দারহাট আরাকান সড়কে তার একটি জিম ব্যবসা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনের সাথে বিবাদে জড়ানোর অভিযোগ নতুন নয়। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন কালে ছাত্রলীগ করা সাঈদ হোসেন সর্বশেষ স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

