কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী রাশিয়ার হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে সতর্ক করার পরপরই এই হামলা চালানো হয়। রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। আজ রবিবার (২৪ মে) স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছুক্ষণ পরেই রাজধানী জুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী টেলিগ্রামে সম্ভাব্য ওরেশনিক হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরপরই এই হামলা শুরু হয়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেছেন, এই হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি স্কুল ভবনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লেগে যায়।
এর আগে, গতকাল শনিবার (২৩ মে) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন যে, রাশিয়া ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন যে, ইউক্রেনীয়, মার্কিন ও ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্র থেকে এই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি যে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কি না। জানা যায়, রাশিয়া এর আগেও দুইবার ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন যে, শব্দের গতির চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি বেগে চলা এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব।
জেলেনস্কির সতর্কবার্তার আগে, পুতিন তার সামরিক বাহিনীকে পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেন। এর কারণ হিসেবে তিনি রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলীয় ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেন। তবে, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, ওই হামলায় একটি রুশ ড্রোন একটি কমান্ড ইউনিটকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

