আন্তর্জাতিক

উচ্চবর্ণের মেয়ের সঙ্গে প্রেম, উত্তরাখণ্ডে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

ভারতের তেহরি গাড়ওয়াল জেলায়, উচ্চবর্ণের এক নাবালিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব করার কারণে ১৮ বছর বয়সী এক দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তার এক বন্ধু গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ গতকাল সোমবার (৮ জুন) সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহত যুবকের নাম কেতন লাল (১৮)। তিনি স্থানীয় দেওয়াল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। হামলায় গুরুতর আহত তার বন্ধু দিবাকর দিমরিকে বৌরাদির জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেতনের বাবা ধনপাল লালের করা পুলিশের কাছে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতাপনগর ব্লকের খোলগড় গ্রামে রবিবার রাতে এই হামলাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে যে, খোলগড় গ্রামের এক নাবালিকার সঙ্গে কেতনের ছয় মাসের বন্ধুত্ব ছিল। গত রবিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে মেয়েটি তার মোবাইল ফোনে কেতনকে ফোন করে তার গ্রামে আসতে বলে। কেতন তার বন্ধু দিবাকর দিমরির সঙ্গে খোলগড়ে গিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দুই বন্ধু গ্রামে পৌঁছানো মাত্রই মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে মারধর করে।
পরদিন সকালে, গতকাল মেয়েটির বাবা ধনপাল লালকে ফোন করে তার ছেলের গুরুতর অবস্থার কথা জানান এবং তাকে নিয়ে যেতে বলেন। ধনপাল লাল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলেকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে চৌন্দ লামগাঁও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার কেতনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবার এবং ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা প্রথমে মরদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
তেহরি গাড়োয়ালের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) শ্বেতা চৌবে ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে, তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি আইনের অধীনেও একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসএসপি আরও জানান যে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে যশবীর সিং পানওয়ার নামে এক অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং ঘটনাটির তদন্ত চলছে।