আন্তর্জাতিক

ইরানের দিকে তাক করা আছে ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, ইরান যদি তাকে হত্যা করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে। তিনি দাবি করেছেন যে, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সামরিক বাহিনীকে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যদি ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, অর্থাৎ আমাকে, হত্যা বা গুপ্তহত্যার চেষ্টা করে, তবে ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যেই লক্ষ্যের দিকে তাক করা এবং প্রস্তুত রয়েছে। এরপর আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন যে, এ বিষয়ে আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইরানি স্থাপনা এক বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়ার সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রয়েছে। এর আগে, ট্রাম্প বলেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু ওয়াশিংটন পরে জানায় যে তেহরানের অনুরোধে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে যাতে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যা করার জন্য ইরানের একটি নতুন পরিকল্পনা রয়েছে।
জুনে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এতে উভয় পক্ষ ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হয়। এই চুক্তিতে সকল প্রকার শত্রুতা বন্ধ করা, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে এই সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবার বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে লেবানন সফরে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক প্রতিনিধিদল ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত নিরসনে স্বাক্ষরিত কাঠামো চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে একটি মার্কিন সামরিক প্রতিনিধিদল শীঘ্রই লেবানন সফরে যাচ্ছে।
দুজন ঊর্ধ্বতন লেবানিজ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে যে, আগামী সপ্তাহে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিতব্য লেবানন-ইসরায়েল কারিগরি বৈঠকের আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একটি প্রতিনিধিদল বৈরুতে পৌঁছাবে। এই বৈঠকে ২৬শে জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত কাঠামো চুক্তি অনুসারে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, সেন্টকম কারিগরি ও রসদ সরবরাহ পর্যায়ে উভয় দেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করছে। তিনি বলেন, কাঠামো চুক্তির বাস্তবায়ন পর্ব শুরু হয়েছে এবং প্রথম পরীক্ষামূলক অঞ্চলটি কয়েক দিনের মধ্যেই চালু হবে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২রা মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় ৪,৩২১ জন নিহত এবং ১২,২০৪ জন আহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান ইস্যু নিয়ে সৌদি যুবরাজের আলোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) অনুসারে, দুই নেতা সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংলাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়াও, উভয় পক্ষ সমুদ্রপথ ও আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।