ইংল্যান্ডের বিদায়, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। দলের হয়ে গোল করেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। কিছু সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হয় আলবিসেলেস্তে। ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করা নিয়ে ম্যাচের শুরুতে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে রেফারি হস্তক্ষেপ করায় ঘটনাটি বেশিদূর গড়ায়নি।
প্রথমার্ধে ১৯টি ফাউল হয়। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ইংলিশরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। সেই ফল পেতে তাদের বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে, মরগান রজার্সের ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের দুর্দান্ত গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়।
৬৪তম মিনিটে আর্জেন্টিনা তাদের একাদশে একটি পরিবর্তন আনে। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পরিবর্তে মাঠে নামেন নিকো গঞ্জালেজ। দ্বিতীয়ার্ধের বিশ্রাম বিরতির পর, আলবিসেলেস্তে আরও তিনটি পরিবর্তন আনে। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনা এবং হুলিয়ানো সিমিওনের পরিবর্তে মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো দে পল এবং গঞ্জালো মন্তিয়েল। ইংল্যান্ডও একটি পরিবর্তন আনে। অ্যান্থনি গর্ডনের পরিবর্তে মাঠে নামেন এজরি কনসা।
ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে মাঠজুড়ে অনেক আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ দেখা যায়। তখনই আর্জেন্টিনা ম্যাচে ফিরে আসে। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে, বক্সের বাইরে থেকে এনজোর দুর্দান্ত শটে আর্জেন্টিনা সমতা ফেরায়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়। মেসির ক্রস থেকে লাউতারো মার্টিনেজের দুর্দান্ত হেডে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে যায়।
বাকি সময়ে ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল। তবে, ইংলিশ ফরোয়ার্ডরা প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তে।

