দেশজুড়ে

এক মাসের মধ্যেই ধসে পড়ল ১.২৫ কোটি টাকার প্রকল্প

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক মাসও পার হয়নি। এরই মধ্যে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত বেড়া ধসে পড়েছে। টানা তিন দিনের বৃষ্টির মধ্যে ঘটা এই ধস প্রায় ১.২৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ গুণমান এবং তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঠিকাদারি সংস্থার প্রতিনিধি দাবি করেছেন যে, প্রকল্পের নকশায় শুরু থেকেই ত্রুটি ছিল।
পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ অনুসারে, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গার্লস স্কুল রোড থেকে সিআরপি এবং একই সড়কের ব্র্যাক অফিস থেকে পোস্ট অফিস পর্যন্ত ৪৪৫ মিটার ড্রেনসহ সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১.২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্র্যাক অফিস থেকে পোস্ট অফিস পর্যন্ত অংশে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সংরক্ষিত পুকুরের পাড় রক্ষার জন্য বেড়া নির্মাণ করা হয়েছিল। যদিও গত মাসেই কাজ শেষ হয়েছিল, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে পুকুরের দক্ষিণ পাশের মাটিসহ বেড়ার একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। অপর পাশেও ফাটল ও বিপদের চিহ্ন দেখা গেছে।
উপর থেকে দেখা যাচ্ছে, ধসে পড়া অংশে মাটি সরে গিয়ে বেড়াটি ভেঙে পড়েছে। এতে সড়কটির স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এত অল্প সময়ে নতুন কোনো নির্মাণ ধসে পড়া স্বাভাবিক নয়। এতে নির্মাণকাজের মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মোস্তাফিজুর রহমান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, নকশা অনুযায়ী ১০ ফুট লম্বা পাইল বসানো হয়েছে। কিন্তু এই স্থানের মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী অন্তত ২০ ফুটের পাইল প্রয়োজন ছিল। আমরা মনে করি, নকশার সীমাবদ্ধতার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। মানিকগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল বাতেন এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে জানান যে, ভারী বৃষ্টির কারণে বেড়াটি ধসে পড়েছে। তদন্তে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে, প্রকৌশল বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সঠিক নকশা, পর্যাপ্ত গভীরতায় পাইল স্থাপন এবং মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করা হলে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নতুন বেড়া ধসে পড়ার কথা নয়। এই ঘটনার দায় নির্ধারণ এবং নকশা, নির্মাণ মান ও তত্ত্বাবধানের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।