ইবোলায় মৃত্যু ৭৫৪, কঙ্গোফেরতদের প্রবেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
দেশটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা মহামারীর কারণে ওয়াশিংটন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআরসি) থেকে ফেরা মার্কিন নাগরিক ও মার্কিন জাতীয়দের প্রবেশের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে মহামারী ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে মোট ২,০১১ জন ইবোলায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৭৫৪ জন মারা গেছেন। এতে মৃত্যুর হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ফ্লাইটের আগের ২১ দিনের মধ্যে যারা ডিআরসিতে ছিলেন, তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইটে উঠতে পারবেন না।
কঙ্গোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) অবস্থানকারী সকল মার্কিন নাগরিক ও নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে কমপক্ষে ২১ দিন দেশের বাইরে থাকার পরিকল্পনা করা উচিত। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা।
এদিকে, কঙ্গো জুড়ে ইবোলা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) বুধবার সতর্ক করেছে যে, রোগটি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার চেয়ে এর বিস্তার অনেক দ্রুত গতিতে বাড়ছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমান প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র দুই মাসে ভাইরাসটি দেশের ৪১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এমএসএফ আরও জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও ব্যাপক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ যা আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরলের সংস্পর্শে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, রোগী শনাক্তকরণ এবং দ্রুত চিকিৎসার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো মনে করে যে, ইবোলার আন্তর্জাতিক বিস্তার রোধে গৃহীত সতর্কতামূলক ব্যবস্থারই একটি অংশ হলো নতুন মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

