মধ্যপ্রদেশে ভোরে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত
ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন মহিলা, একটি শিশু এবং একজন পুরুষ ছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে মধ্যপ্রদেশের উমারিয়া জেলায়, যখন একটি যাত্রীবাহী গাড়ি রাস্তার পাশে পার্ক করা একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, আজ ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উমারিয়া জেলার সিভিল লাইন্স থানার অন্তর্গত ভারুলা গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পার্ক করা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতার কারণে গাড়িটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। যাত্রীরা ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে, গাড়িটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে অনেক সময় লেগে যায়। বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে গাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে মৃতদেহ ও আহত ব্যক্তিকে বের করে আনা হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত এক মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তিরা মধ্যপ্রদেশের অনুপপুর জেলার লিলহাটোলা এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা সপরিবারে চিত্রকূট যাচ্ছিলেন। পথে ভারুলা এলাকার কাছে সিদ্ধবাবা ধামে পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
উমারিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলোক কুমার শর্মা জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। মৃতদের আত্মীয়রা অনুপপুর থেকে উমারিয়ায় আসছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার সময় গভীর রাত হওয়ায় রাস্তায় যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে, চালক কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কিনা, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি কেন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, তাও তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিকট শব্দ শুনে তাঁরা দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি দেখতে ছুটে যান। গাড়িটির সামনের অংশ প্রায় পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল। আহতদের উদ্ধারে স্থানীয়রা পুলিশকেও সাহায্য করেন।
ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে দীর্ঘ যাত্রার সময় অতিরিক্ত গতি, ক্লান্তি, তন্দ্রাচ্ছন্নতা এবং রাস্তার পাশে পার্ক করা ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে প্রায়শই বহু মানুষ প্রাণ হারান। এই দুর্ঘটনাটি সেই উদ্বেগকে আবারও সামনে এনেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহগুলো আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে, দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

