দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরে দাফনের ১৪ মাস পর কৃষক দল নেতার মরদেহ উত্তোলন

প্রায় ১৪ মাস পর কৃষক দল নেতা শাহাদাত হোসেন পরশের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মামলার তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য আজ রবিবার (৩ মে) সকাল ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার তেরবেকি এলাকার পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন এবং সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আরমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। নিহত শাহাদাত জেলা কৃষক দলের সাবেক সহ-সভাপতি প্রয়াত জালাল উদ্দিনের ছেলে এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সামসেরাবাদ এলাকার বাসিন্দা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ শেখ সুমন জানান, ২০২৫ সালের ৭ মার্চ চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ মোস্তানগর এলাকায় পরশ মারা যান। পরদিন ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ লক্ষ্মীপুরের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে, একই বছরের ৯ এপ্রিল তার স্ত্রী শেফালী বেগম শেপু তাকে হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় তার মোহন নামে এক বন্ধু অভিযুক্ত হন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত মৃতের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, মরদেহ কবর থেকে তুলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পুনরায় দাফন করা হবে।
বাদী শেফালী বেগম শেপু জানান, তার স্বামী শাহাদাত হোসেন পরশ ওমানে প্রবাসী ছিলেন। ঘটনার প্রায় ৮ মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। অভিযুক্ত মোহনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। তার স্বামী একটি ভ্যাকুয়াম মেশিন কিনে দেশে থাকতে চেয়েছিলেন। ঘটনার দিন পরশ, মোহন ও পরশকে একটি মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নিয়ে যান। পরে জানা যায়, পরশ ঘটনাস্থলেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে আমার আত্মীয়রা জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ স্টেশন থেকে পরশের লাশ উদ্ধার করেন। এরপর তার পেটে ছুরির দাগ দেখে পুলিশ মামলা করতে বলে। পরদিন তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুরে এনে দাফন করা হয়। জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে তারা তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। আদালতে একটি মামলা করা হয়। পরশের কাছে থাকা ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার পর তাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মোহনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।