দেশজুড়ে

১৬ হাজার টাকায় পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেলেন জুয়াড়ি এজেন্ট

সরকার সারাদেশে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। তারপরেও কক্সবাজারের পেকুয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মোরশেদ আলম মো. কায়সার নামে এক অনলাইন জুয়াড়ি এজেন্টকে গ্রেপ্তার করে ১৬ হাজার টাকায় ছেড়ে দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার তৈটং ইউনিয়নের গুডিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে।
তদন্ত শেষে জানা যায়, এএসআই মোরশেদ সোমবার সন্ধ্যায় তৈটং ইউনিয়নের গুডিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের একটি দোকান থেকে কায়সারকে গ্রেপ্তার করেন। সে সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা কায়সারের মোবাইলে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পান। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি কায়সারের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর এএসআই মোরশেদ বিকাশের মাধ্যমে ১৬ হাজার টাকা আদায় করেন।
জিজ্ঞাসা করা হলে মো. কায়সার বলেন, তিনি কাছাকাছি এক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে এলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই সে পালিয়ে যায়। তখন এএসআই মোরশেদ হঠাৎ টেবিল থেকে আমার মোবাইলটি নিয়ে নেন। এরপর মোবাইলে অনলাইন জুয়ার লেনদেন দেখে তিনি আমার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তিনি আমার মোবাইল থেকে পেকুয়া চৌমুহানীর একটি দোকানের এজেন্ট নম্বরে ১৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে আমাকে ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই মোরশেদ আলম প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি মোবাইল বিষয়ে অতটা দক্ষ নই। এসব বিষয়ে নিজের বাহিনীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে তিনি ফোন কেটে দেন। কিছুক্ষণ পর তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে ঘুষ নিয়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্টকে ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে জানতে পেকুয়া থানার ওসি খায়রুল আলমকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো ফোন ধরেননি।