জলস্তর কমে যাওয়ায় তেঁতুলিয়ার ৫টি গ্রামে ভোগান্তি
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অন্তত পাঁচটি গ্রামের অধিকাংশ নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছর ধরে তেঁতুলিয়ার সিদ্দিকনগর, মোমিনপাড়া, সাহেবজ্যোত, ঈদগাবস্তি ও পুরান বাজার এলাকার নলকূপগুলোতে বছরের সাত থেকে আট মাস জল আসছে না।
ফলে, এই এলাকার মানুষকে সীমান্তের কাছে মহানন্দা নদীর তীরে স্থাপিত একটিমাত্র নলকূপের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে, জল সংগ্রহের জন্য স্থানীয়রা প্রতিদিন ভোর থেকেই সেই একমাত্র নলকূপটির সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। সিদ্দিকনগরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন জানান, এখন পানীয় জল থেকে শুরু করে স্নানের জল পর্যন্ত সবকিছুই নদীর পাশের নলকূপ থেকে আনতে হচ্ছে।
দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে, কিন্তু নিজেদের নলকূপে জল আসছে না। পুরুষরা কোনোমতে জল আনতে পারলেও নারী ও বয়স্কদের জন্য তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে সমস্যাটি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁরা অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তেঁতুলিয়া উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিঠুন কুমার রায় বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাঁচ বছর আগে যেখানে জলের স্তর ৭০ থেকে ৮০ ফুট ছিল, এখন তা ১১০ থেকে ১২০ ফুটে নেমে গেছে। ফলে সাধারণ নলকূপ দিয়ে জল তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকট সমাধানে সাবমার্সিবল পাম্প প্রয়োজন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সমাধান সম্ভব। তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে পাম্প স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংকট কিছুটা কমবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

