শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে ডিএনসিসির ৫৯৯টি কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি শুরু
শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি এলাকায় মোট ৫৫৮টি স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬’ শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত পরিচালিতব্য এই কর্মসূচির লক্ষ্য প্রায় ৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া।
আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারাইল এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রত্যেক শিশুকে অবশ্যই টিকা দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের ১৭টি উপজেলায় এবং পরে ৪টি সিটি কর্পোরেশনে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ২০ তারিখ থেকে দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মহাখালী ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালকে সাধারণ হাসপাতালে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিদ্যমান পরিকাঠামো ব্যবহার করে নগরবাসীকে উন্নততর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা যায়।
এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। এ উদ্দেশ্যে ডিএনসিসি এলাকায় ৫৪টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং ৫০২টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ৩৫টি সান্ধ্য কেন্দ্র এবং ৮টি শুক্রবারের কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবেন মোট ৫৯৪ জন টিকাদান কর্মী, ৬৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২০৩ জন সুপারভাইজার।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সকল অভিভাবকদের তাদের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি-র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের টিকাদান স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ড. রিয়াদ মাহমুদ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. রাজেশ নারওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।

