ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে একটি ‘ভাসমান হাসপাতাল’ পাঠাচ্ছেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চলটিতে একটি ভাসমান ‘হাসপাতাল জাহাজ’ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি বলেন যে, লুইসিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সহায়তায় সেখানে একটি বৃহৎ হাসপাতাল জাহাজ পাঠানো হচ্ছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডে অনেক অসুস্থ মানুষ যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং তাদের সেবা করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি তার বার্তার সাথে মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজ ‘ইউএসএস মার্সি’-এর একটি ছবিও সংযুক্ত করেছেন। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের এই ঘোষণা কূটনৈতিক মহলে অনেক বিভ্রান্তি এবং বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। কারণ গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কে উন্নত এবং জাতীয়করণকৃত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে, যা নাগরিকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ডেনিশ সরকার বা গ্রিনল্যান্ড সংসদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, ডিসেম্বরে ট্রাম্প লুইসিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। ল্যান্ড্রি রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ বা কেনার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। গত জানুয়ারিতে, তিনি ন্যাটো প্রধানের সাথে গ্রিনল্যান্ডের জন্য একটি “ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা” ঘোষণা করেছিলেন, যা ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে এই ক্রমবর্ধমান মার্কিন হস্তক্ষেপ গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বিশেষ করে, মার্কিন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সম্পর্কে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর বর্তমানে দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে, ‘ইউএসএস মার্সি’ এবং ‘ইউএসএস কমফোর্ট’, যেগুলি সাধারণত মানবিক বিপর্যয়ে বা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে ‘পিটুফিক স্পেস বেস’ নামে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ কি কেবল মানবিক সহায়তা নাকি গ্রিনল্যান্ডের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশলের অংশ তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনেক আলোচনা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন

