দেশজুড়ে

হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যৌতুকের দাবিতে হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুরের একটি আদালত লালন মল্যা (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এছাড়া তাকে ২০,০০০ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ, সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ২টায় ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের জজ (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের আবুল হোসেন মল্যার ছেলে। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, এই মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছে। এই রায়ের সাজা পূর্বের কারাবাস থেকে গণনা করা হবে।
আদালতের ভাষ্যমতে, প্রায় ১৬ বছর আগে পারিবারিক রীতিতে সাজেদা বেগম (৪০) নামের এক নারীর সঙ্গে অভিযুক্ত লালন মোল্যার বিয়ে হয়। পরে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকার একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন এবং লালন মোল্যা সেই বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন।
বিয়ের পর থেকেই লালন মোল্যা যৌতুকের জন্য তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে, দাবি করা ৫০,০০০ টাকা না দেওয়ায় সাজেদা বেগমকে ২০২২ সালের ২৩শে আগস্ট ভোররাতে হাতুড়ি দিয়ে মুখে আঘাত করে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এই ঘটনায় নিহতের বোন সাজেদা বেগম ২৬শে আগস্ট কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার একমাত্র অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) জগন্নাথ দাস ২০২৪ সালের ১১ই জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে তিনি হত্যাকাণ্ডের এক লোমহর্ষক বিবরণ দেন। উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ঘটনার দিন সকালে যৌতুকের টাকা না পেয়ে সে তার স্ত্রী সাজেদা বেগমের বাম গাল, বাম ভ্রু, বাম চোখ, নাক, কপাল, ডান কাঁধসহ মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে আহত করে। পরে সে বাড়ির মালিককে ফোন করে বলে, “ও বিপদে পড়েছে।” তখন বাড়ির ম্যানেজার ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সাজেদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয় এবং পুলিশ ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।