জাতীয়

ইরান যুদ্ধে ১২ বাংলাদেশি নিহত

গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন লেবাননে, তিনজন সৌদি আরবে, দুজন সংযুক্ত আরব আমিরাতে, একজন ইরাকে এবং একজন বাহরাইনে মারা গেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মজুরি উপার্জনকারী কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ১২ জন নারী ও আটজন শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে ইরান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে নানা দেশ থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে। নয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে দাফনের জন্য বিমানবন্দর থেকে ৩৫,০০০ টাকা এবং যুদ্ধে নিহতদের জন্য বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দর থেকে অসুস্থ ও মৃত শ্রমিকদের পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স বহরে দুটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স (ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দরে) এবং চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা বিমানবন্দরেও আরও দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের মালপত্র বহনের সুবিধার্থে ২০০টি ট্রলি কেনার প্রক্রিয়া চলছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহত ও অসুস্থ প্রবাসী শ্রমিকদের বিমানে ওঠা-নামার সুবিধার্থে ১০টি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন যে, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য একটি লাউঞ্জ স্থাপন, ৩০ শতাংশ ছাড়ে স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার জন্য একটি মেডিকেল কর্নার (প্রাথমিক চিকিৎসা) স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।